বরিশালের মুলাদীর সফিপুর ইউনিয়নের আমানতগঞ্জ বাজারে পুলিশের সামনে এক ইউপি সদস্যকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় হওয়া হামলায় আহত এমদাদ সফিপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও উত্তল বালিয়াতলী গ্রামের বাসিন্দা। হামলাকারী একই গ্রামের মন্নান মাঝির ছেলে কালো মানিক মাঝি। এলাকায় সে পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত।
মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন এমদাদ বলেন, আমি রুহুল আমিনের চায়ের দোকানে বসা ছিলাম। এ সময় মুলাদী থানার এএসআই নাজিম, কনস্টেবল আলামিন ও কালো মানিক একটি মোটরসাইকেল চেপে বাজারে আসে। এরপর এএসআই নাজিম আমাকে ডাক দিয়ে বলেন তুমি ফাউল কথা বলে বেড়াও কেন? এরই মধ্যে নাজিমের সোর্স কালো মানিক বড় একটি টর্চ লাইট নিয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। প্রথমে আমার মুখমণ্ডলের ওপর আঘাত করে। এ সময় আমার নাক ফেটে রক্ত বের হতে থাকে।
পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে মুলাদীতে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে সেখান থেকে শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।
এমদাদ অভিযোগ করেন, এএসআই নাজিম ও কনস্টেবল আলামিন এবং কালো মানিক সাধারণ মানুষের পকেটে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে টাকা আদায় করেন। সম্প্রতি এ বিষয়ে আমি কথা বলায় তারা আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়।
এমদাদের দাবি পরিকল্পিতভাবে কালো মানিককে দিয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দুই পুলিশ ও কালো মানিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন বলে জানান।
সফিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু মুছা হিমু মুন্সী বলেন, এএসআই নাজিম ও কনস্টেবল আলামিন এবং কালো মানিক ইয়াবা দিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁসিয়ে টাকা আদায় করে। এ বিষয়টি নিয়ে আহত এমদাদ প্রতিবাদ করায় তার ওপর কালো মানিক হামলা চালায়। তিনি এ হামলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে এএসআই নাজিম বলেন, আমরা বাজারে গিয়ে দাঁড়ানোর পর আকস্মিকভাবে কালো মানিক ইউপি সদস্য এমদাদের ওপর হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়। এখানে আমাদের কোনও দোষ ছিল না।
মুলাদী থানা ওসি ফয়েজ উদ্দীন মৃধা জানান, হামলার বিষয়টি জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মুলাদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন জানান, ইউপি সদস্য এমদাদ হোসেনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার বিষয়টি গুরুতর। তাকে শেরেবাংলা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে এবং হামলাকারীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।








