করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যেই ঈদকে সামনে রেখে আগামী ১০ মে থেকে লকডাউন শিথিল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই পরিস্থিতিতে যেন করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকানো যায় সে লক্ষ্যে ‘নো মাস্ক নো সেল’ প্রচারণা শুরু করেছে ঝালকাঠি জেলা পুলিশ। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং মাস্ক পরিধান করে যাতে কেনাকাটা নিশ্চিত করা যায়, সে জন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে সদর চৌমাথায় রাস্তার মধ্যে ব্যবসায়ী নেতাদের ডেকে এ প্রচারণা শুরু করেন পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন। পরে শহরের বিভিন্ন সড়কে দাঁড়িয়ে ‘নো মাস্ক নো সেল’ লেখা লিফলেট পথচারী ও ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেন তিনি।
এ সময় পুলিশ সুপার বলেন, 'সবচেয়ে বড় বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে, ঈদে নতুন জামা কেনার চেয়ে জীবনের নিরাপত্তা অনেক বেশি প্রয়োজন। নতুন জামা কিনতে গিয়ে আপনি করোনা আক্রান্ত হলেন, এটা ভালো; নাকি ঘরে বসে নিরাপদে থেকে করোনামুক্ত থাকবেন, এটা ভালো। এ ব্যাপারে আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমাদের পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, ক্রেতারা মাস্ক না পরলে কোনও পণ্য বিক্রি করা যাবে না। এ বিষয়ে আমরা প্রচারণা শুরু করেছি। ঈদ পর্যন্ত আমাদের এই প্রচারণা চলবে। এ ছাড়াও ঘরের বাইরে বের হলে অবশ্যই একটি ছাতা নিয়ে বের হবেন। এতে তিন ফুট, অর্থাৎ সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকবে।’ পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।
স্বল্প পরিসরে দোকান খোলা না রাখলে পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান পুলিশ সুপার। এ সময় ব্যবসায়ীরাও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বেচাকেনা করার প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রচারণায় অংশ নেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এম এম মাহমুদ হাসান, ঝালকাঠি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহম্মেদ সালেক ও পরিচালক মু. মনিরুল ইসলাম তালুকদার।
ঝালকাঠিতে এ পর্যন্ত ১৪ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় জেলাজুড়ে আতঙ্ক রয়েছে। পুলিশও তাই করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।







