গভীর রাতে মেসে ঢুকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনও মামলা হয়নি। গ্রেফতার হয়নি কোনও হামলাকারী। তবে বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সিনিয়র শিক্ষকদের সঙ্গে প্রক্টরিয়াল বডির আলোচনার পর সন্ধ্যায় মামলাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রক্টর।
এদিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের আশ্বাস দেওয়ায় অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থী তারা। একই সময় একই দাবিতে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে (১৭ ফেব্রুয়ারি) নগরীর রূপাতলী হাউজিংয়ের মেসে ঢুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের প্রতিবাদে ওই রাত থেকেই বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার দিনভর অবরোধে মহাসড়ক পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর এবং একটি বাসে আগুন দেয় শিক্ষার্থীরা। শেষ পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন ও উপাচার্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আলোচনার পর তিন শর্তে ওইদিন বিকাল ৫টা ১০ মিনিটের সময় অবরোধ কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করেন আন্দোলনকারীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল- শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মোক্তার হোসেন জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত থানায় কোনও অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন তারা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সুব্রত কুমার দাস জানান, গত দুই দিনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য এবং সিনিয়র শিক্ষকদের সঙ্গে প্রক্টরিয়াল বডির আলোচনা শেষে সন্ধ্যায় মামলাসহ আইনগত পদক্ষেপ নেবেন তারা।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং হামলকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে আজ বরিশালে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং মিছিল করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট। সংগঠনের জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে বেলা ১১টায় নগরীর টাউন হলের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রসঙ্গত, প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তৌফিকুল সজল ও ফারজানা আক্তার মেমি নিজ বাড়ি খুলনায় যাওয়ার জন্য রুপাতলীস্থ বিআরটিসি কাউন্টারে যান। সেখানে কাউন্টার স্টাফ রফিক তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে মারধর ও লাঞ্চিত করেন ওই দুই শিক্ষার্থীকে। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে এবং রফিককে গ্রেফতারের দাবি জানায়। পুলিশ রফিককে ১ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করে। এর জের ধরে রাতে শিক্ষার্থীদের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় ২০ শিক্ষার্থী আহত হন, এদের মধ্যে ১৩ জনকে শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর ওই দিন সকাল ৭টা থেকে বরিশাল-পটুয়াখালী মহসড়ক অবরোধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মামলা ও অভিযুক্তদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে বিকাল ৫টায় অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
গভীর রাতে শিক্ষার্থীদের মেসে পরিবহন শ্রমিকদের হামলা, আহত ২০
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতারের আশ্বাস, শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার









