বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় দুই পরিবহন শ্রমিককে গ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং তাদের মুক্তির দাবিতে নগরীর রূপাতলী বাস টার্মিনাল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৭ রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। এতে এসব এলাকার যাত্রীরা মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছেন। এমনকি বিকল্প যানবাহনেও তাদের যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপনের সাফ কথা গ্রেফতারকৃত দুই শ্রমিকের মুক্তি এবং তাদের অহেতুক হয়রানি করা বন্ধের নিশ্চয়তা না দেওয়া পর্যন্ত এ ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়া হবে।
আন্দোলনরত সাধারণ শ্রমিকরা জানান, শুক্রবার রাতে রনি ও ফিরোজ নামের তাদের দুই শ্রমিককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ । তাদের দাবি, ওই শ্রমিকরা হামলার সঙ্গে জড়িত নয়। এ কারণে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ৭ জেলার ১৭টি রুটে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন রূপাতলী বাস মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
ওই সময় থেকে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে টায়ারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এমনকি পটুয়াখালী, ঝালকাঠী এবং নগরীর সাগরদী ব্রিজ এলাকায় পাহারা বসিয়েছে তারা। এ সময় বিকল্প পথে যাতায়াতের জন্য যাত্রীরা ছোট ছোট যানবাহন নিয়ে গেলে তাও আটকে দিচ্ছে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এতে করে দুর্ভোগে পড়া যাত্রীরা তাদের জিম্মি করে শ্রমিকদের আন্দোলনচেষ্টায় প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। তারা বলেন, ‘আন্দোলন হবে, তবে যাত্রীদের জিম্মি করে কেন? এছাড়াও তো আন্দোলনের ভিন্ন পথ রয়েছে।’ এসময় সড়ক অবরোধ ছাড়া বিকল্প পথে আন্দোলন করতে পরিবহন শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
এ ব্যাপারে বরিশাল-পটুয়াখালী বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপন বলেন, গ্রেফতারকৃত নিরীহ শ্রমিকদের মুক্তি এবং রূপাতলী বাস টার্মিনালের কাউকে অহেতুক হয়রানি বন্ধ করা না হলে এ আন্দোলনে চালিয়ে যাওয়া হবে।
প্রসঙ্গত গত বুধবার গভীর রাতে নগরীর রূপাতলী হাউজিংয়ের বিভিন্ন মেসে ঢুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ২০ শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মু. মুহসিন উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে নগরীর রূপাতলীর দুই পরিবহণ শ্রমিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। যদিও গ্রেফতারকৃত ওই শ্রমিক শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত নয় বলে দাবি করেন শিক্ষার্থীরাও।









