বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহসহ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা দুইটি মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেফতার ১৬ নেতাকর্মীর মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বরিশাল জেলা ও মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শুক্রবার (২০ আগস্ট) বিকালে নগরীর সদর রোডের দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এ দাবি করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খালেদা হক।
বক্তব্য রাখেন- গৌরনদী উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন্নাহার মেরী, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শ্যামলী সাহা, সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর কোহিনুর বেগম এবং সাবেক কাউন্সিলর নিগার সুলতানা হনুফাসহ অন্যান্যরা।
সমাবেশে বক্তারা সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর ওপর গুলি করার প্রতিবাদ জানান। একইসঙ্গে মেয়রসহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রত্যাহার এবং গ্রেফতারদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। অনতিবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারসহ নেতাকর্মীদের মুক্তি দেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।
উল্লেখ্য, বুধবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২০ থেকে ২৫ জন কর্মচারী নগরের সিঅ্যান্ডবি রোডে উপজেলা পরিষদ এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতার শুভেচ্ছা ব্যানার অপসারণের কাজ শুরু করে। এ সময় ইউএনও-এর কার্যালয় ও সরকারি বাসভবনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যরা তাদের পরিচয় জানতে চান। এরপর তারা সকালে এসে কাজ করার জন্য বলেন। এ সময় সিটি করপোরেশনের কর্মচারীদের সঙ্গে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের বাগবিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী সেখানে যান। পরে সেখানে আনসার সদস্যদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহও সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় নেতাকর্মীরা ইউএনও-এর বাসায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি ছোড়েন আনসার সদস্যরা। হামলা ও সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন ওসি ও প্যানেল মেয়রসহ সাতজন। এছাড়া পুলিশের লাঠিচার্জে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন।
ওই ঘটনায় আওয়ামী লীগের ৩০ থেকে ৪০ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকশ’ জনকে আসামি করে সদর উপজেলার ইউএনও একটি এবং পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেছে। দুই মামলায় সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।









