পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ধানীসাফা ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মিজানুর রহমান বিপ্লব (৪০) নামে এক যুবলীগ নেতার হাতের কবজি কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে ওই ইউনিয়নের আলগী বাজারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
আহত মিজানুর রহমান বিপ্লবকে রাতেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ফরিদ নামের একজনকে আটক করেছে। বিপ্লব ধানীসাফা ইউনিয়নের সাফা গ্রামের নূর উদ্দিন বেপারীর ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়নের যুবলীগের সহ-সভাপতি।
আহত বিপ্লব ধানীসাফা ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুন অর রশিদ তালুকদারের সমর্থক। অভিযোগ উঠেছে, ওই ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলামের সমর্থকরা বিপ্লবকে কুপিয়ে জখম করে বাঁ হাতের কবজির অনেকাংশ কেটে ফেলেছে। এ ছাড়া তার ডান হাতের একটি আঙুলও প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। তার মাথা, পিঠ ও দুই হাত কুপিয়ে জখম করেছে।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বাচ্চু বেপারীর অভিযোগ, ‘বুধবার রাতে বিপ্লব আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুন অর রশিদ তালুকদারের নৌকা মার্কার স্টিকার নিয়ে আলগী বাজারে দলীয় কার্যালয়ে যান। রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলামের সমর্থক আলগী গ্রামের ফরিদ আকনের নেতৃত্বে একদল লোক তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে ফেলে চলে যায়। ভয়ে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেননি। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।’
নৌকার প্রার্থী হারুন অর রশিদ তালুকদার চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানান, বিপ্লবের হাতের কবজি জোড়া লাগানো সম্ভব নয়। কবজি ও একটি আঙুল ফেলে দিতে হবে। তার অভিযোগ, স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে তার লোকজন বিপ্লবকে কুপিয়ে জখম করেছে।
তবে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলামের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘উল্টো সন্ধ্যার পর করিম আকন স্কুল এলাকায় প্রচারণা চালানোর সময় তার কিছু লোকজনকে নৌকার প্রার্থী হারুন অর রশিদের লোকজন মারধর করে এবং তিনটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করে।’
মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তানভীর আহমেদ বলেন, ‘বুধবার রাত ১০টার দিকে বিপ্লবকে হাসপাতালে আনা হয়। তার মাথা, পিঠ ও দুই হাতে ধারালো অস্ত্রের জখম রয়েছে। বাঁ হাতের কবজি অনেকাংশে কেটে গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
মঠবাড়িয়া থানার ওসি মুহা. নূরুল ইসলাম বাদল বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফরিদ নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।’
পঞ্চম ধাপে আগামী ৫ জানুয়ারি মঠবাড়িয়া উপজেলার চার ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ হবে।









