বরিশালে হৃদয় হাওলাদার (১৯) নামে এক তরুণকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৬ আগস্ট) বরিশাল মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানার ডেফুলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হৃদয় ওই এলাকার খোকন হাওলাদারের ছেলে। তিনি পেশায় ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি। তার বাবা খোকন হাওলাদার রাজমিস্ত্রি। হৃদয়ের মা মারুফা বেগম বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
হৃদয়ের মামা হাবিব হাওলাদার বলেন, ‘হৃদয়ের সঙ্গে একই এলাকার স্কুলপড়ুয়া এক মেয়ের দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে মোবাইল ফোনে কল পেয়ে হৃদয় ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। গভীর রাতে তার প্রেমিকার বাড়ি সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপর শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। শুক্রবার সকালে পরিবারের পক্ষ থেকে বরিশাল মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে পুলিশ গিয়ে সুরতহাল করে লাশ মর্গে পাঠায়। তবে তারা শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পায়নি। দুপুরে প্রেমিকা, তার বাবা-মা, ভাই এবং প্রত্যক্ষদর্শী আরও দুই জনকে এলাকা থেকে থানায় নিয়ে আসে। রাতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ১৩ আগস্ট প্রেমিকাকে নিয়ে ঘর ছাড়ে হৃদয়। এরপর তার বিরুদ্ধে ওই মেয়ের পরিবার থেকে থানায় অভিযোগ দেয়। অভিযোগের পর আমাকে ও হৃদয়ের মাকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। মেয়েটিকে পুলিশের মাধ্যমে পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হলে অভিযোগ তুলে নেওয়া হয়। এরপর থেকে ওই পরিবার থেকে হৃদয়কে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। হৃদয়কে তারাই হত্যা করেছে।’
হৃদয়ের ছোট ভাই মোমেন হাওলাদার জানান, রাতে খবর পেয়ে তিনি ও তার বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে হৃদয়কে বালুর ওপর পড়ে থাকতে দেখেন। উদ্ধার করে মেডিক্যালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমলেশ চন্দ্র হালদার বলেন, ‘শুক্রবার দুপুরে খবর পেয়ে মেডিক্যাল গিয়ে লাশ দেখে এসেছি। শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই মেয়ে (হৃদয়ের প্রেমিকা), তার বাবা-মা, ভাই ও লাশ দেখেছে এমন দুই জনকে নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার কোনও প্রমাণ মেলেনি। এছাড়া রাত ১০টা পর্যন্ত হৃদয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়নি। লিখিত অভিযোগ এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যা না অন্যকিছু নিশ্চিত হওয়া যাবে।’









