পটুয়াখালীর কুয়াকাটার পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার জাতীয় পার্টি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ১নং সিনিয়র সদস্য ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এমপির হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তিনি ক্ষমতাসীন দলটিতে যোগ দেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় ঢাকায় আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবনে উপস্থিত হয়ে তিনি দল পাল্টান। এ সময় কুয়াকাটা পৌরসভার বিভিন্ন স্তরের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন বলে নিশ্চিত করে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘সকালে আমার নেতা আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন। আমি তাকে স্বাগত জানিয়েছি।’
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, আনোয়ার হাওলাদার পটুয়াখালী জেলার মহিপুর থানা জাতীয় পার্টির সভাপতি পদে থেকে পটুয়াখালী-৪ আসনে একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হন। পরে সরে দাঁড়ান এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনের মাঠে কাজ করেন। এরপর ওই আসনের সরকার দলীয় এমপি অধ্যক্ষ মহিবুর রহমানের হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করলেও দলের প্রাথমিক সদস্য পদ লাভে ব্যর্থ হন।
২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর কুয়াকাটা পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন নৌকার প্রার্থী কুয়াকাটা পৌর আওয়ামীলী গের সভাপতি আব্দু বারেক মোল্লার সঙ্গে। সে নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন আনোয়ার হাওলাদার। এরপর থেকেই কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারেক মোল্লার সঙ্গে নির্বাচনি বিরোধ ক্রমে রাজনৈতিক বিরোধে রূপ নিতে থাকে। ফলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে না পেরে গত দুই বছর ধরে পৃথকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন আনোয়ার হাওলাদার।
আওয়ামী লীগে যোগদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে তার দলে যোগ দিয়ে কুয়াকাটাবাসীর উন্নয়নে কাজ করাই আমার লক্ষ্য।’
তার আওয়ামী লীগে যোগদানকালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক, গৌরনদী পৌরসভার মেয়র হারিচুর রহমান, কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ বারী আজাদ, কুয়াকাটা পৌর যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুয়াকাটা পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ মনির শরিফ, কুয়াকাটা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও কুয়াকাটা পৌরসভার প্যানেল মেয়র-২ শহিদুল ইসলাম শহিদ, কুয়াকাটা পৌর যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সগির মোল্লা, কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের ১ নং ওয়ার্ড সাবেক সভাপতি আব্দুল রব হাওলাদার (মাঝি) প্রমুখ।









