বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের পাশে দুরপাল্লার ১২টি বাসের কাউন্টারে তালা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় বাস মালিক গ্রুপ ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জোরপূর্বক তালা দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। নথুল্লাবাদ বাস মালিক গ্রুপের নেতারা দাবি করেছেন সিটি মেয়রের নির্দেশে তারা মহাসড়কের পাশে থাকা কাউন্টারগুলো বন্ধ করে দিয়েছেন।
বন্ধ কাউন্টারগুলো হলো-গ্রীনলাইন, ইউনিক, এনা, শ্যামলী, সোহাগ, টাইম ট্রাভেলস, ইউরো কোচ, সাকুরা, হানিফ, মিজান, বিএম ও ইলিশ।
গ্রীনলাইন পরিবহনের সেলস ম্যানেজার ইমরান হোসেন জানিয়েছেন, ৩ দিন আগে বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে মহাসড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী না তোলার নির্দেশ দেন। এরপর এক শাটার বন্ধ রেখে কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রি এবং কাউন্টারের সামনে থেকে যাত্রী তুলে বাস ছেড়ে যাচ্ছিল। আজ হঠাৎ কিশোর কুমারের নেতৃত্বে মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা এসে কাউন্টার থেকে যাত্রীদের বের করে স্টাফদের ভেতরে রেখে তালা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে অনুরোধ করে কাউন্টার থেকে সকল স্টাফ বের হওয়ার পর তালা মেরে দেয়। বিষয়টি তারা মালিক পক্ষকে অবহিত করেছেন।
ইমরান আরও জানান, দূরপাল্লার রুটে যাত্রীদের ভাড়া অনুপাতে সুযোগ সুবিধাও দিতে হয়। এ সুযোগ সুবিধার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ভালো ওয়াশরুমের ব্যবস্থা করা। যা টার্মিনালে নেই। এ কারণে যাত্রীদের সুবিধার্থে টার্মিনালের বাইরে কাউন্টার নেওয়া হয়েছে। এখন মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে টিকিট বিক্রি এবং বাসে যাত্রী তুলতে হবে। সড়কের পাশে কোনও কাউন্টার থাকতে পারবে না। কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে তারা বন্ধ কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে টিকিট বিক্রি করছেন।
সোহাগ পরিবহন বাসের সুপারভাইজার মো. রাজু জানিয়েছেন, বাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে’র নেতৃত্বে মালিক ও শ্রমিক নেতারা এসে কাউন্টার বন্ধ করে দিয়েছেন। তাদের নির্দেশ টিকিট এবং বাস উভয় ক্ষেত্রে টার্মিনাল ব্যবহার করতে হবে। তাদের নির্দেশের বিষয়টি মালিক পক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেখান থেকে কোনও নির্দেশনা পাননি।
ইউনিক পরিবহনের কাউন্টার ইনচার্জ মো. ইউনুস জানিয়েছেন, বিআরটিসি বাস বছরের পর বছর ধরে মহাসড়কের ওপর থেকে যাত্রী তোলে। এতে কোনও সমস্যা হয় না। আর তাদের গাড়ি কাউন্টারের সামনে রাখা হয় না। দূরবর্তী স্থানে রেখে যাত্রী তুলে চলে যায়। এতে যানজটও কম হয়। কিন্তু আকস্মিকভাবে কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বে যাত্রীরা। কারণ যাত্রীদের প্রথম শ্রেণির সুবিধা দিতেই টার্মিনাল থাকা সত্ত্বেও ভিন্নভাবে কাউন্টার নেওয়া হয়। টামিনালে সে সুবিধা দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
এ ব্যাপারে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে বলেন, টামির্নাল এলাকায় যানজট নিরসনে সিটি মেয়র এবং বিভাগীয় কমিশনার ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তকর্তাদের নির্দেশে কাউন্টার বন্ধ করে টার্মিনালে আসার জন্য বলা হয়। কিন্তু তারা তাতে কর্ণপাত না করে কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রি এবং কাউন্টারের সামনে থেকে বাস ছাড়া অব্যাহত রাখে। এ কারণে ওই সকল কাউন্টার বন্ধ করে বাস টার্মিনাল থেকে টিকিট বিক্রি এবং টার্মিনাল থেকে বাস ছাড়ার জন্য বলা হয়েছে। এতে করে টার্মিনাল এলাকায় যে যানজটের সৃষ্টি হয় তা থেকে অনেকটা পরিত্রাণ মিলবে।









