পায়রা সমুদ্র বন্দরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রাবনাবাদ চ্যানেল ক্যাপিটাল ড্রেজিং সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এতে পায়রা বন্দর দেশের সবচেয়ে গভীরতম সমুদ্র বন্দরে রূপান্তরিত হয়েছে। এখন থেকে সাড়ে ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ রাবনাবাদ চ্যানেল দিয়ে পায়রা বন্দরের ভিড়তে পারবে বলে জানিয়েছেন পায়রা সমুদ্র বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল।
রবিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে পায়রা সমুদ্র বন্দরের সম্মেলন কক্ষে ড্রেজিং কার্যক্রম শেষে চ্যানেল হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় সংসদ সদস্য মুহিব্বুর রহমান, ড্রেজিং কোম্পানি জান ডি নুলের প্রকল্প পরিচালক জান মঈন ও বন্দরের স্কিম পরিচালক রাজিব ত্রিপুরাসহ বন্দরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ড্রেজিংয়ের ফলে ৭৫ নটিক্যাল মাইল দৈর্ঘ্য এবং ১১০ থেকে ২০০ মিটার প্রস্থের চ্যানেলটির গভীরতা সাড়ে ১০ মিটারে উন্নীত হয়েছে, এর ফলে প্যানামেক্স সাইজের বড় মাদার ভ্যাসেল সহজে বন্দরে প্রবেশ করতে পারবে। ৪০ হাজার মেট্রিকটন পণ্যবোঝাই জাহাজের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের লাইটারেজের প্রয়োজন হবে না। এতে বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বহুগুণ বাড়বে। যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। শুধু ড্রেজিংই নয়, সমান তালে এগিয়ে চলছে বন্দরের প্রথম টার্মিনাল নির্মাণকাজ। মে মাসে বন্দরের প্রথম টার্মিনালের কাজ শেষ হবে। ইতিমধ্যে ইনার ও আউটারবারে মার্কিং, বয়া বাতি বসানো হয়েছে। ইনারবারে ১৫টি জাহাজ রাখা যাবে। সেখানে লোডিং আনলোডিং কার্যক্রম চলবে। সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে বেলজিয়াম ভিত্তিক ড্রেজিং কোম্পানি জান ডি নুল। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত তারা মেনেটেইনেন্স ড্রেজিং করবে।
উল্লেখ্য, পায়রা বন্দর দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর। বাংলাদেশের প্রথম স্বপ্নদ্রষ্টা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লালিত স্বপ্ন “সোনার বাংলা” বিনির্মাণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভৌগোলিক অবস্থান ও বহুমাত্রিক সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর পায়রা বন্দরের শুভ উদ্বোধন করেন। এখন দক্ষিণের এ জনপদের এই বন্দর দেশের অর্থনৈতিক যোগান দিচ্ছে। বন্দরে রয়েছে দিনরাত কর্মমুখর। পায়রা বন্দর একটি পরিকল্পিত বন্দর। অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও উন্নতমানের সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে নেয়া হয়েছে বন্দরের মাস্টাপ্লান। সে অনুযায়ী বন্দরের উন্নয়ন কাজ দ্রুত বাস্তবায়িত হচ্ছে। একটি আধুনিক বন্দর হিসেবে আন্তর্জাতিক মানের সেবা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে পায়রা বন্দরের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ।









