বরিশাল সিটি করপোরেশনের পঞ্চম পরিষদের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রতিদ্বন্দ্বী কে হচ্ছেন তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এ ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপস এবং বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিমকে এগিয়ে রাখছেন স্থানীয় ভোটারদের কেউ কেউ। তাদের হিসাবে, পরের অবস্থানে রয়েছে সাবেক মেয়র মরহুম আহসান হাবিব কামালের ছেলে বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসান রুপন। নির্বাচনে অপর প্রার্থীরা হচ্ছেন— জাকের পার্টির মিজানুর রহমান বাচ্চু, স্বতন্ত্র আলী হোসেন হাওলাদার ও আসাদুজ্জামান আসাদ।
এদিকে সিটি নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শেষ হচ্ছে আজ শনিবার। আগামী ১২ জুন অনুষ্ঠিত হবে ভোট। শেষ মুহূর্তে ভোটের হিসাব কষছেন প্রার্থী ও তাদের প্রচারণায় থাকা টিমের সদস্যরা। নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী থাকলে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকতো আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। কিন্তু বিএনপি না থাকায় নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে তেমন কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবে না জাতীয় পার্টি ও চরমোনাই অনুসারী বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা। আর রুপন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও বহিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির ভোট ব্যাংক তার হাতছাড়া হওয়ায় কিছুটা বেকায়দায় রয়েছেন তিনি। এমনটাই দাবি করছেন নৌকার নির্বাচনে সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আফজালুল করিম।
আফজালুল করিম বলেন, ‘তারপরও আমরা কোনও প্রার্থীকেই ছোট করে দেখছি না। প্রতিটি প্রার্থী আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সেভাবেই প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ৫৮ বর্গ কিলোমিটার নগরীতে ১ হাজারের অধিক প্রচারণার টিম কাজ করছে। প্রতিটি ঘরে ঘরে নৌকার প্রার্থীর বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনে বিজয়ের সঙ্গে সঙ্গে নৌকার কর্মী ও সমর্থক বাড়ানো।’
নৌকার মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের স্ত্রী লুনা আব্দুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তারা গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ এবং উঠান বৈঠকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। সাধারণ নগরবাসী সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত নগরী গড়তে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তারা উন্নয়নের চেয়ে সন্ত্রাসমুক্ত নগরীর দাবি জানিয়েছেন।
খোকন সেরনিয়াবাত বলেন, ‘আমিও তাদের কথা দিয়েছি— সন্ত্রাসমুক্ত নগরীর গড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক উন্নয়ন করা হবে।’ সাধারণ নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়েই সেই উন্নয়ন করার অঙ্গীকার করেছেন বলেও জানান তিনি। তাছাড়া ইশতেহারে ১৭টি পয়েন্ট উল্লেখ করেছেন নির্বাচিত হতে পারলে ওই ইশতেহারের পয়েন্ট ধরে তা বাস্তবায়ন করবেন। এরপরও নগরবাসীর কোনও সুপারিশ থাকলে তাও বাস্তবায়ন করা হবে।
লাঙ্গলের মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপস বলেন, ‘আমি প্রত্যেক প্রার্থীকেই প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি। তবে আমার আশা নগরবাসী আমাকে নিরাশ করবেন না। তারা আমাকে নির্বাচিত করলে উৎপাদনমুখী নগরী গড়ে তোলা হবে। আর বরিশাল নগরী হবে আইসিটির রাজধানী। প্রতি বছর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ৫০ হাজার বেকার যুবক-যুবতীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। তাছাড়া সিটি করপোরেশনের আয় বৃদ্ধি করা হবে। যাতে করে নগরবাসীকে স্বল্প টাকায় সেবা দেওয়া সম্ভব হয়। এরপরও খাল ও ড্রেন সংস্কার করে জলাবদ্ধতা নিরসন করা হবে। গড়ে তোলা হবে মা ও শিশুদের জন্য পৃথক হাসপাতাল।’
তাপস আরও বলেন, ‘প্রচারণাকালে তিনি সাধারণ নগরবাসীর সাড়া পাচ্ছেন। তাদের চোখের চাহনি এবং করমর্দন বলে দিচ্ছে তারা আমাকে ভোট দেবেন।’ তিনি দাবি করেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে মেয়রের চেয়ারে তিনিই বসবেন।
অন্যদিকে হাতপাখার মেয়র প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিম বলেন, ‘এখানে কে কার প্রতিদ্বন্দ্বী, তা বড় কথা নয়। আমরা সবাই প্রতিযোগিতা করছি। এর মধ্যে নগরবাসী যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন, তিনিই নগরপিতার আসনে অধিষ্টিত হবেন।’ যারা নগরীতে শান্তির পরিবেশ চায়, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজমুক্ত নগরী চায়, তারাই তার ভোট ব্যাংক বলেও উল্লেখ করেন। সে ক্ষেত্রে সাধারণ নগরবাসী থেকে শুরু করে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ সব দল থেকেই তার প্রতীকে ভোট পড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
ফয়জুল করিম বলেন, ‘প্রচারণাকালে নগরবাসীর উন্নয়নের চেয়ে বড় দাবি হচ্ছে শান্তির পরিবেশ সৃষ্টি করা। তাই আমি আমার ইশতেহারে নগরবাসীর মানবিক দিকগুলোর প্রতি বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। আমাকে নির্বাচিত করলে রাজনীতিতে সহ-অবস্থানের পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি কঠোর হস্তে দমন করা হবে। আর এ কারণে নগরবাসী আমাকে বিজয়ী করবেন।’
স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী কামরুল আহসান রুপন বলেন, দল থেকে বহিষ্কার করলেও বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তাকেই ভোট দেবেন। তাদের ভোট, তার বাবার ভোট ব্যাংক এবং সাধারণ নগরবাসীর ভালোবাসায় সে বিজয়ী হবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। রুপন বলেন, ‘আমার বাবা যেসব উন্নয়ন করতে পারেননি, আমি নির্বাচিত হলে তা পূরণ করবো।’
এদিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ার চেষ্টা করছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আলী হোসেন হাওলাদার, মিজানুর রহমান বাচ্চু ও আসাদুজ্জামান আসাদও। তারা তাদের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা নগরবাসীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানাচ্ছেন, দিচ্ছেন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি।
আগামী ১২ জুন বরিশাল নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের ১২৬টি কেন্দ্রের ৮৯৪টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নগরীতে ভোটার ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০৯ জন এবং পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৮৯ জন।









