পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার গৌরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. আক্তারুজ্জামান দুলাল হত্যা মামলায় আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। পিরোজপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন রবিবার পিরোজপুর জেলা জজ আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন।
যাদের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হয়েছে তারা হলেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টি (জেপি)র কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মাহিবুল হোসেন মাহিম, মো. শহীদুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন আনু, মো. রিপন কবিরাজ, মো. অহিদ মুন্সী, মো. পলাশ হাওলাদার, শামীম আহসান সেপাই, রনি, মো. সোহেল, মো. আব্দুস সোবাহান, মো. রফিকুল ইসলাম মিন্টু, মো. আরিফুল ইসলাম, মো. সবুজ, সুজন তালুকদার, মো. নাসির সরদার, মো. হায়দার আলী হাওলাদার, মো. ওবায়দুল হক বাচ্চু, মো. আব্দুল কুদ্দুস মুন্সী, মো. সোহেল আকন, মো. রফেজ উদ্দীন মেম্বার ও মো. দুলাল সরদার।
মামলা সূত্র জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার গৌরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টি (জেপি) কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. আক্তারুজ্জামান দুলাল বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে পার্শ্ববর্তী মাটিভাঙ্গা গ্রামে যাচ্ছিলেন। পথে পূর্ব ভাণ্ডারিয়া এলাকায় সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই গৌরিপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান টিপু বাদী হয়ে মো. শহীদুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন আনু, মো. আব্দুস সোবাহান, রফিকুল ইসলাম মিন্টু, মো. আরিফুল ইসলাম, মো. সবুজ, সুজন তালুকদার, মো. নাসির সরদারসহ আরও ১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে ভাণ্ডারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। সিআইডি তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ১০ ডিসেম্বর আদালতে মো. সবুজ, সোহেল আকন, রিপন কবিরাজ, শহীদুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন আনু, নাসির উদ্দিন সরদার, অহিদ মুন্মী, হায়দার আলীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে। এরপর মামলার বাদী বদিউজ্জামান টিপু এ চার্জশিটের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দেন। এরপর মামলাটি তদন্ত করেন মঠবাড়িয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জিএম আবুল কালাম আজাদ। তিনি মামলাটি তদন্ত শেষে শহিদুল ইসলাম, রিপন কবিরাজ, অহিদ মুন্সী, মো. পলাশ হাওলাদার, মো. সবুজ , মো. আনোয়ার হোসেন আনু, সোবাহান হাওলাদার, নাসির সরদার, মাহিবুল হোসেন মাহিমের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপরে নিহতের আরেক ভাই খালেকুজ্জামান নিপু (আক্তারুজ্জামান দুলাল হত্যা মামলার ৭ নং সাক্ষী) আদালতে নারাজি দেন। পিরোজপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন মামলাটি তদন্ত করে রবিবার পিরোজপুর জেলা জজ আদালতে ২১ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন।
উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান দুলাল ১৯৮৪-১৯৮৫ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন। এছাড়া, তিনি জাতীয় পার্টি (জেপি) কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
/এমএনএইচ/








