বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, ‘গত ১৭ বছর স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের বুকের ওপর এমনভাবে চড়াও হয়েছিল যে, মানুষ নিশ্বাস নিতে পারছিল না। প্রতিটি জায়গায় আন্দোলন করলে আমাদের রাজাকার আর জামায়াত বলে আখ্যায়িত করা হতো। কোমলমতি শিশুদের সঙ্গেও যখন একই আচরণ করলো, সেই চাপ আর সহ্য করতে পারেনি। তাই আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেছে।’
বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) বিকালে ভোলা শহরে নিজ বাসভবন চত্বরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। বিকাল ৪টার দিকে ঢাকা থেকে ইলিশা লঞ্চঘাটে এসে পৌঁছান পার্থ। বৃষ্টি উপেক্ষা করে শত শত মোটরসাইকেলে তাকে সংবর্ধনা জানাতে আসেন নেতাকর্মীরা। লঞ্চঘাটে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর পর তাকে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে শহরের উকিলপাড়ার নিজ বাসভবনে আসেন।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ ও তাদের মাগফিরাত কামনা করে ভোলা সদরের সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘ছাত্রদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে সরকার পেয়েছি, নতুন করে স্বপ্ন দেখার যে সুযোগ পেয়েছি, আমাদের কোনও কর্মকাণ্ড যেন শহীদদের আত্মত্যাগকে অপমান না করে। আমাদের মাথায় রাখতে হবে আমরা যেন জল্লাদে রূপান্তরিত না হই। হিন্দু সম্প্রদায় থেকে শুরু করে কোনও দুর্বল মানুষের প্রতি যেন আমরা অত্যাচার না করি।’
গত ১৭ বছর মানুষ অনেক জুলুমের শিকার হয়েছে উল্লেখ করে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান বলেন, ‘৩০০ আসনে আওয়ামী লীগের ৩০০টা জল্লাদ ছিল। এমন কোনও অপকর্ম নেই যা তারা করেনি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন আমরাও করিনি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররাও করেনি, তাদের পতন করেছেন আল্লাহ তায়ালা। আল্লাহ বলেন, আমার জমিনে অহংকারের সাথে হেঁটো না, তুমি জমিন বিদীর্ণ করতে পারবে না, জমিন ছিদ্র করে ওপরে উঠতে পারবে না। আল্লাহ দম্ভকারীকে পছন্দ করেন না। আজকে আল্লাহ আওয়ামী লীগকে এই চরম শিক্ষা দিয়ে দিয়েছেন। এই থেকে আমাদেরও শিক্ষা নিতে হবে।’
বিজেপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘এখন ড. ইউনূসের সরকার এসেছে। আমরা এই সরকারের পাশে আছি। আমরা সরকারপ্রধানকে বারবার বলেছি, রাষ্ট্র মেরামতের জন্য যত সময় দরকার, আপনি নিন। আমরা আপনার পাশে থাকবো; কিন্তু স্বৈরাচারের বিচার করতে হবে।’
বিজেপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক সচিব আসিফ জুয়েলের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জেলা বিজেপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. মোতাছিন বিল্লাহ প্রমুখ।









