সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের চারটি বাস ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ না দেওয়ায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীদের বহনকারী দুটি বাস আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বাস দুটি নগরীতে প্রবেশ করলে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা বাস দুটি মহাত্মা অশ্বিনী কুমার ছাত্রাবাস প্রাঙ্গণে এনে আটকে রাখে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বিএম কলেজ এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিএম কলেজের চারটি বাস এবং বিএম কলেজ কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২টি বাসের ক্ষতিপূরণ দেবে। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও ক্ষতিপূরণ না দেওয়ায় বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরকারি বিএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর তাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে সরকারি বিএম কলেজ ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২টি বাস এবং বিএম কলেজের গ্যারেজে রক্ষিত চারটি বাস ভাঙচুর করা হয়।’
অধ্যক্ষ বলেন, ‘৪ সেপ্টেম্বর উভয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতিপূরণ নিরূপণ করা হয়। বিএম কলেজের বাস মেরামতে ৫ লাখ টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস মেরামতে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি নির্ধারণ করা হয়। তৎকালীন অধ্যক্ষ সিদ্ধান্ত দেন বিএম কলেজের ক্ষতিপূরণ থেকে তাদের টাকা কেটে বাকি টাকা দেওয়ার জন্য। তখন সেসময়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্যসহ সকলেই বিষয়টি মেনে নেন।’
আরও পড়ুন: বাড়ি দখল নিয়ে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত শতাধিক
তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও ওই টাকা আর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে না দেওয়ায় বাসগুলো মেরামত করা সম্ভব হয়নি। এতে করে দূরদূরান্তের শিক্ষার্থীদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ কারণে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বাস দুটি আটক করেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে যাতে কোনও ধরনের সমস্যার সৃষ্টি না হয় সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হচ্ছে।’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিএম কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ঢাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিএম কলেজের দাবিকৃত অর্থ দ্রুত সময়ের মধ্যে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’
প্রসঙ্গত, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে সরকারি বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। এর জের ধরে ৩ সেপ্টেম্বর নগরীর বটতলা এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে আটকে বেদম মারধর করেন বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২টি বাসে করে ঘটনাস্থলে আসলে তাদের ওপরও হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। প্রতিশোধ নিতে ওই রাতে বিএম কলেজের গ্যারেজে রাখা ৪টি বাস ভাঙচুর করা হয়। এরপর সমঝোতা বৈঠকে উভয়পক্ষ ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।









