কুয়াকাটা সৈকতে আবার মৃত ডলফিন, দড়ি দিয়ে লেজ বাঁধা

কুয়াকাটা প্রতিনিধি
০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:১২আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:১২

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে আবারও ভেসে এলো মৃত ডলফিন। প্রায় আট ফুট দৈর্ঘ্যের এই ডলফিন ইরাবতী প্রজাতির। এটির চামড়া উঠে গেছে ও পেট ফেটে গেছে এবং দড়ি দিয়ে লেজ বাঁধা অবস্থায় ছিল।

রবিবার (০৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে জোয়ারে ভেসে এসে সৈকতের পশ্চিম পাশে বালুর ওপরে ডলফিনটি আটকা পড়ে। পরে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) সদস্য আব্দুল জলিল এটি দেখতে পান এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি ইরাবতী ডলফিন। যার মাথা গোলাকার। সাধারণ ডলফিনের মতো এদের লম্বা ঠোঁট থাকে না। এই প্রজাতির ডলফিন সাধারণত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অগভীর উপকূলীয় জল ও বড় নদীগুলোতে থাকে। এটি বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে পরিচিত। সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।

কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ‘লেজ বাঁধা দেখে মনে হচ্ছে এটি কোনও জেলের জালে আটকা পড়েছে। অথবা কোনও জেলে মাছ মনে করে ধরে ফেলেছিল। পরে বুঝতে পেরে জাল থেকে ছাড়াতে গিয়ে রশি দিয়ে টান দেওয়ার সময় রশিসহ ছিঁড়ে নদীতে থেকে যায়। তবে এটি আমাদের জন্য অশনিসংকেত। ডলফিনের মৃত্যু উপকূলীয় পরিবেশের অবনতির ইঙ্গিত দেয়। দ্রুত কারণ অনুসন্ধান করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, অনুসন্ধান করলে জানা যাবে।’

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, ‘বারবার মৃত ডলফিন ও কচ্ছপ ভেসে আসা প্রমাণ করে যে আমাদের সামুদ্রিক পরিবেশ হুমকির মুখে। অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরা, প্লাস্টিক দূষণ ও নৌযানের অসচেতন চলাচল এর জন্য দায়ী।’ 

বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা কে এম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ডলফিনটির মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে তদন্ত করা হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং স্থানীয়দের সচেতন করতে কাজ চলছে।’

পরে ডলফিন রক্ষা কমিটি, কুয়াকাটা পৌরসভা, বন বিভাগ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উপরার সদস্যরা যৌথভাবে ডলফিনটিকে মাটি চাপা দেন।

এর আগে গত বছরের ১৯ আগস্ট, ২০ সেপ্টেম্বর ও ২৮ সেপ্টেম্বর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে ভেসে এসেছিল ইরাবতী প্রজাতির মৃত ডলফিন। ওই বছর ১২টি মৃত ডলফিন সৈকতে ভেসে এসেছিল।

/এএম/ 
সম্পর্কিত
এক দিনেই ৭০০ তিমি ও ডলফিন হত্যা
সাগরের সেই ‘মৃত্যুস্থলে’ ভেসে যাচ্ছিলেন চার পর্যটক, উদ্ধার করলো কে?
কক্সবাজার সৈকতে নিখোঁজ পর্যটকের লাশ উদ্ধার
সর্বশেষ খবর
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
৩৮ বছর বাড়ি ফিরে বিপদে জবেদ, স্ত্রী বললেন স্বামী হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
বিপর্যয়ের মুখে সুন্দরবন
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মরার ওপর খাঁড়ার ঘা: জাসদ (ইনু)
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মরার ওপর খাঁড়ার ঘা: জাসদ (ইনু)
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে: জামায়াত
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি