বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের একটি খাল থেকে শামীম হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১২টার দিকে গৌরিচন্না বাজার সংলগ্ন খাল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত শামীম গৌরিচন্না ইউনিয়নের বাসিন্দা মুনসুর আলীর ছেলে।
স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শামীম হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। রবিবার রাতে বাড়ির পাশের বাজারে যাওয়ার পর আর বাড়িতে ফেরেননি। রাত ২টার দিকে শামীম বাড়িতে না ফিরলে তার স্ত্রী ও স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সোমবার সকালে খালের পাশে রক্তের দাগ ও একটি জুতা দেখতে পেয়ে তাদের সন্দেহ হয়। বিষয়টি বরগুনা সদর থানাকে জানানো হলে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় খালের কচুরিপানার ভেতর থেকে তার মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের ভাই সোহেল মিয়া বলেন, ‘আমার ভাইয়ের সঙ্গে কারও কোনও বিরোধ ছিল না। তবে ব্যবসায়িক কোনও লেনদেনের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই আমরা।’
নিহতের স্ত্রী রোকসানা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী অনেক কষ্ট করে ব্যবসার মাধ্যমে সংসার গুছিয়েছিলেন। আমিও তার সঙ্গে নানা কষ্ট করেছি। এখন একটু সুখের মুখ দেখতে শুরু করেছিলাম, এমন সময় আমার স্বামীকে জীবন দিতে হলো। তার কোনও শত্রু ছিল না। কেন তাকে এভাবে হত্যা করা হলো, কারা করলো। আমি কিছুই জানি না। যারাই হত্যা করেছে, আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
নিহতের মেয়ে কারিমা বলেন, ‘বাবা আমাকে খুব আদর করতেন। আজ বাবাকে ওরা মেরে ফেলেছে। এখন আমাদের দেখাশোনা করবে কে? আমার বাবা কারও ক্ষতি করেননি। তারপরও তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি হত্যাকারীদের বিচার চাই।’
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলীম বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় ফোন করা হয়। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর খালের কচুরিপানার ভেতর থেকে মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার কারণ, ঘটনার সময়কাল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত তা উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি নিখোঁজ মাথা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’









