পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফি ও তার বড় ভাই মামুন এবং বাবা এবিএম হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের জমি দখল, চাঁদাবাজি ও ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে আদালতে মামলা করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলাপাড়া উপজেলার রজাপাড়া গ্রামের নুরুজ্জামান কাফি, তার বড় ভাই মামুন ও বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান একটি ভেকু (খননযন্ত্র), ভ্যান, কোদাল ও খোয়া নিয়ে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রজাপাড়া মৌজার ৫৯ নম্বর দাগভুক্ত জমিতে প্রবেশ করেন। সেখানে জমির মাটি কেটে ভূমির আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করা হয়। খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম পাঁচ জন সহকারী শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজের প্রতিবাদ করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নুরুজ্জামান কাফি প্রধান শিক্ষকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা প্রায় ১১০ ফুট দীর্ঘ ও ৩০ ফুট প্রশস্ত, প্রায় ছয় শতাংশ জমি থেকে অন্তত এক লাখ টাকার মাটি কেটে ট্রলিযোগে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেন এবং সেখানে খোয়া ফেলে রাস্তা নির্মাণ করেন। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
গত ১৪ জুলাই বিদ্যালয়ের জমি দখল করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ প্রকাশ্যে এলে নুরুজ্জামান কাফি সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন। ওই ঘটনার পর এবার তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করা হলো।
তবে মামলায় আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুজ্জামান কাফি। তিনি বলেন, ‘ওই জমির ওয়ারিশরা দীর্ঘদিন মামলা পরিচালনার পর সুপ্রিম কোর্ট থেকে রায় পেয়েছি। আমি তাদের কাছ থেকে বায়নামূলে জমি কিনেছি। মালিকপক্ষ জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর সেখানে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের সঙ্গে আমার কোনও সামনাসামনি দেখা বা কথাবার্তা হয়নি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।’
কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফেরদৌস মিয়া জানান, মামলাটি গ্রহণ হয়েছে। আদালত তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কলাপাড়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।









