বরিশাল নগরীর দপদপিয়া ব্রিজে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত মৃত্যুবরণ করেছেন। রবিবার (৯ আগস্ট) বিকালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।
ইয়াসিন আরাফাত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁয়ে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ফয়সল মাহমুদ জানিয়েছেন, রবিবার বিকালে ব্রিজের ওপর বিআরটিসি বাসের সঙ্গে নিহত শিক্ষার্থীকে বহনকারী থ্রি হুইলারের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে থ্রি হুইলারের এক যাত্রী নিহত হন এবং শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাতসহ তিন যাত্রী গুরুতর আহত হন। তাদেরকে উদ্ধার করে শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি আরও জানান, ঘটনা শোনার পর হাসপাতালে ইয়াসিন আরাফাতকে দেখতে যান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মামুন উর রশিদ। ইয়াসিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচে মেডিক্যালের অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইয়াসিন মারা যান।
এদিকে রবিবার রাত ৮টার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তার দাবিতে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। তারা চার দফা বাস্তবায়নের দাবি জানান। এতে করে মহাসড়কের দুই প্রান্তে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
বন্দর থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানিয়েছেন, ওই দুর্ঘটনার পর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে। দুই ঘণ্টা অবরোধে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ১০টার দিকে অবরোধ তুলে নিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বিক্ষোভরত একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তাদের দাবি বাস্তবান না হলে আবারও তারা মহাসড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবেন।
দাবির মধ্যে রয়েছে- আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মহাসড়ক মেরামত করা। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রূপাতলী পর্যন্ত সার্বক্ষণিক বাসের ব্যবস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুরক্ষার স্বার্থে ক্যাম্পাসের উভয় পাশে ফুটপাত নির্মাণ।
এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. গাজী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তাদের সব যৌক্তিক দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে মেনে নেওয়া হবে। আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাগুলোর সমাধান করবো।









