বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়ায় থ্রি-হুইলার ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধের দাবিতে ছয়টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন বাস মালিক ও শ্রমিকরা। একই সঙ্গে থ্রি-হুইলার ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ থাকায় দূরদূরান্তে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে চরকাউয়া বাস টার্মিনাল থেকে ছয়টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন চরকাউয়া বাস মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকরা।
বরিশাল চরকাউয়া বাস শ্রমিক ইউনিয়নের মাসুম মজুমদার জানান, রবিবার (১ নভেম্বর) চরকাউয়া বাস টার্মিনালে বাস শ্রমিকদের সঙ্গে থ্রি-হুইলার ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের বিরোধ বাধে। এ সময় সড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধের দাবি জানান বাস মালিক ও শ্রমিকরা।
তিনি বলেন, থ্রি-হুইলারের কারণে প্রতিনিয়ত বাস দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে থ্রি-হুইলার ও অটোরিকশা চালানোর কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। এসব দুর্ঘটনায় সাধারণ যাত্রীরা হতাহত হচ্ছেন। এতে বাস মালিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দুর্ঘটনার শিকার হলে একটি বাস আবার সড়কে নামাতে মোটা অঙ্কের টাকা ব্যয় করতে হয়।
মাসুম মজুমদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যার সমাধান চাওয়া হলেও কেউ এগিয়ে আসছেন না। এ কারণে ধর্মঘটের ডাক দিয়ে ছোট যানবাহনগুলোকে শাখা সড়ক ব্যবহারের দাবি জানানো হয়েছে। দাবি না মানা পর্যন্ত ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে মূল সড়ক থেকে থ্রি-হুইলারসহ ছোট যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর থেকে থ্রি-হুইলার ও অটোরিকশাচালকরা একত্র হয়ে বিভিন্ন স্থানে গাছ ফেলে বাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছেন। এমনকি বাসের চালক ও হেলপারদের মারধর করা হয়েছে। এসব ঘটনার বিচার দাবি করেন তিনি। এ কারণে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, সদর উপজেলার চরকাউয়া এলাকার চরামদ্দির ইজিবাইকচালক সুমন সিকদার বলেন, গোমা থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ইজিবাইক চলাচল করে। এ সড়কে কোথাও সাইড সড়ক নেই। এ কারণে বাসের পাশাপাশি তাঁদেরও মূল সড়ক ব্যবহার করে যাত্রী পরিবহন করতে হয়। কিছু হলেই তাঁদের সাইড সড়কে চলে যেতে বলা হয়। এমনকি গাড়িতে হামলাও চালানো হয়। অসুস্থ রোগী থাকলে মূল সড়ক ব্যবহার করতে হয়।
সুমন সিকদার বলেন, রবিবার অসুস্থ রোগী নিয়ে চরকাউয়া খেয়াঘাট পর্যন্ত যাওয়ার পর তাকে মারধর করা হয়। এরপরও বাস মালিক ও শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের চলাচলে বাধা দিয়ে আসছেন। এ কারণে ছোট যানবাহন চলাচল বন্ধ করে তারা সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। এর সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত চরকাউয়া ইউনিয়নে কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারবে না বলে জানান তিনি।