মন্দির নির্মাণ সমস্যা, ভিক্ষুর পারিবারিক সমস্যা ও জঙ্গি সমস্যা- এই তিন সমস্যাকে সামনে রেখে বান্দরবানে নাইক্ষ্যংছড়িতে বৌদ্ধ ভিক্ষু মং শু উ (৭০) হত্যার ঘটনায় তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানান।
এদিকে ভিক্ষু হত্যার ঘটনায় আটক তিনজনকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার সকালে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু হানিফ ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বান্দরবানের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, তিনটি বিষয়ের দিকে নজর রেখে আমরা হত্যা রহস্য উন্মোচনে কাজ করছি। তবে রোহিঙ্গা সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও আমরা খতিয়ে দেখছি। এর অংশ হিসেবে আমরা এরইমধ্যে দুই রোহিঙ্গাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছি।
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় পুলিশ রবিবার ভোরে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারি ইউনিয়নের ইতারিপাড়া থেকে তিনজনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন জিয়াউর রহমান (২৫), আবদুর রহিম (৪০) ছা মং চাক (৪৫)। এর মধ্যে জিয়াউল হক ও আবদুর রহিম মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক।
এই ব্যাপারে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা কিছু পাইনি। তাদের রিমান্ডে নেওয়া হবে। তবে কিছু আলামত পেয়েছি। আমরা আশাবাদী দ্রুত ভিক্ষু হত্যাকাণ্ডের সঠিক রহস্য উন্মোচন করতে পারবো।
আরও পড়ুন: আসলাম চৌধুরী ৫৪ ধারায় ৭ দিনের রিমান্ডে
এদিকে বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলছে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
এই ব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি আবুল খায়ের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, জেলার গোয়েন্দা বিভাগসহ ছয় সিনিয়র কর্মকর্তা হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য কাজ করছেন।
অন্যদিকে, নাইক্ষ্যংছড়ির ওপর চাকপাড়ায় সোমবার তিনটার পর বৌদ্ধ ভিক্ষু মং শু উর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হবে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বৌদ্ধ অনুসারীরা এতে যোগ দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার দিনগত রাতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশাড়ি ইউনিয়নে এই বৌদ্ধ ভিক্ষুকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। বাইশারির ওপর চাকপাড়া বৌদ্ধ মন্দিরে এই ঘটনা ঘটে।
হত্যাকাণ্ডের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে স্বজনরাই ভিক্ষুকে হত্যা করেছে বলেও মন্তব্য করেন।
/জেবি/এফএস/এজে








