নৌশ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের ডাকা কর্মবিরতিতে অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া নৌযান শ্রমিকদের এই কর্মবিরতিতে বন্ধ হয়ে গেছে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম। বন্ধ রয়েছে খাদ্যশস্য ও পণ্যবাহী মাদার ভ্যাসেল থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য ওঠানামার কাজ।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকেই সরকার ঘোষিত সর্বনিম্ন মজুরি ১০ হাজার টাকা বাস্তবায়ন করাসহ ৪টি দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যান লাইটার জাহাজ ও যাত্রীবাহী লঞ্চের শ্রমিকরা। বাংলাদেশ নৌশ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে সোমবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে সারাদেশে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। তবে তেলবাহী জাহাজ শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর কারণে কর্মবিরতি থেকে সরে এসেছেন তারা।
শ্রমিকদের কর্মবিরতির ফলে কর্ণফুলী নদীর ১৬ ঘাট ও চট্টগ্রাম বন্দরে লাইটারেজ জাহাজে পণ্য ওঠানামার কাজ থেমে গেছে। এতে মাদার ভ্যাসেলে থাকা পণ্যের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের আহ্বায়ক ওয়েজুল আলম বুলবুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ১০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ চার দফা দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এছাড়া কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ পুনঃবনির্ধারণ, নৌপথে ডাকাতি-চাঁদাবাজি বন্ধ করা ও নদীর নাব্যতা রক্ষায় পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবিও জানানো হয়েছে।’ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলবে বলেও জানান তিনি।
ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আয়াতুল কবীর রঞ্জু বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, শ্রমিকদের কর্মবিরতির ফলে প্রায় ৬১১টি লাইটার জাহাজ বন্দরেই দাঁড়িয়ে রয়েছে। সারাদেশের বিভিন্ন ঘাটেও পণ্য ওঠানামার কাজ থেমে গেছে।
প্রসঙ্গত, গত ২০ এপ্রিল মজুরি বাড়ানোসহ ১৫ দফা দাবিতে ধর্মঘট পালন শুরু করেছিলেন নৌযান শ্রমিকরা। তখন মালিক ও শ্রমিকদের নিয়ে নৌমন্ত্রী বৈঠক করে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ১০ হাজার টাকা করার ঘোষণা দিলে শ্রমিকরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন। কিন্তু মালিকপক্ষ তা বাস্তবায়ন না করে আদালতে রিট করায় গত রবিবার শ্রমিকরা ফের কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।
- নাটোরে নৌকা ডুবি: ১ জনের লাশ উদ্ধার, আরও নিখোঁজ ৫
- মাদক ব্যবসায়ীদের বাড়ির ইট খুলে নিয়ে আসবো: শামীম ওসমান
/এমও/








