পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন কার্যকর হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী বাঙালিরা ভূমি থেকে উচ্ছেদ হবেন, এমন শঙ্কাকে ‘অমূলক ধারণা ও অমূলক শঙ্কা’ বলে মন্তব্য করেছেন কমিশনের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আনোয়ার উল হক। তিনি বলেন, ‘ভূমি কমিশন শুধু বিরোধপূর্ণ ভূমি নিয়েই কাজ করবে।’
রবিবার (৪ আগস্ট) রাঙামাটিতে ভূমি কমিশনের আইন সংশোধিত হওয়ার পর অনুষ্ঠিত প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের এই কথা বলেন তিনি। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া সভাটি শেষ হয় দুপুরে। সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সম্মেলন কক্ষে সভা হওয়ার কথা থাকলেও বাঙালি সংগঠনগুলোর ডাকা হরতালের কারণে সার্কিট হাইজেই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় কমিশনের ৯ সদস্য অংশ নেন। সভা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, পার্বত্য সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা এবং সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার কমিশন সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) বলেন, ‘এখন শুধু কমিশনের কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। ভূমি কমিশনের মাধ্যমে ভূমি সমস্যা সমাধান করতে পারবো বলে আমরা আশা করছি।’
চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বলেছেন, ‘কী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা এগিয়ে যাবো তা নিয়ে কমিশনের সভায় আলোচনা করা হয়েছে। কোন প্রক্রিয়ায় দরখাস্ত আহ্বান করা হবে, জনবল, অফিস বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলের যেকোনও জায়গায় অফিস করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে। ২০০১ সালের যে আইন করা হয়েছে, সেই অনুসারেই কমিশন কাজ করবে।’
এদিকে ভূমি কমিশনের সংশোধিত আইনকে বাঙালিবিদ্বেষী, কমিশনকে পক্ষপাতদুষ্ট এবং কমিশনে বাঙালি সদস্য বাড়ানোর দাবিতে বাঙালি সংগঠনগুলোর ডাকে তিন পার্বত্য জেলায় চলমান হরতালে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পার্বত্য রাঙামাটি। সকাল থেকে শহরের অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ আছে। হরতালের সমর্থনে শহরের বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং করেছে বাঙালিরা। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
/এফএস/ আপ-এইচকে/
পড়ুন: বান্দরবানে ৪ জঙ্গি আটক!








