বর্তমান সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল ১০ টাকা কেজি চাল দেশের ৫০ লাখ হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে বিতরণ করা হবে। এ উপলক্ষে লংগদু উপজেলায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার আটারকছড়া,কালাপাকুজ্জ্যা, মাইনীমূখসহ প্রতিটি ইউনিয়নে দরিদ্রদের বঞ্চিত করে বিত্তবানদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগও করা হয়েছে।
আটারকছড়া ইউনিয়নবাসীর পক্ষে গণস্বাক্ষরসহ লিখিত অভিযোগকারী শাহজাহান বিশ্বাস তার অভিযোগপত্রে হতদরিদ্রদের নাম বাদ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যরা নিজেদের আত্মীয়স্বজন ও সমাজে বিত্তশালী এবং প্রভাবশালীদের নাম অন্তর্ভুক্তি করেছেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে কয়েক হাজার দরিদ্র মানুষের নাম ফেয়ারপ্রাইজ কর্মসূচিতে অর্ন্তভুক্তি করার লক্ষে ভোটার আইডি কার্ড, ছবি, আবেদন ফরম সংগ্রহ করেন নিজ নিজ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যরা। কিন্তু মূল তালিকায় এলাকার অনেক দরিদ্র মানুষের নাম ওঠেনি ফলে এ নিয়ে উপজেলার সচেতন মহলে ব্যাপক সমালোচনা শোনা যাচ্ছে। অনেক এলাকায় একই পরিবারের পাঁচজনের নামে ফেয়ারপ্রাইজ কার্ড হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
আটারকছড়া ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। এ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সচিব নওশের আলী মোল্লা,ভাঙ্গামুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক খলিলুর রহমান, করল্যাছড়ি বাজার কমিটির সভাপতি নুরু মিয়া পিসি, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী হোসেন সওদাগরের জামাতা হোমিও ডাক্তার ছাদেকুর রহমান,উত্তর ইয়ারিংছড়ি সেনামৈত্রী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.শাহ জালালসহ (মালেক)আরও অনেক বিত্তবানদের নাম ফেয়ারপ্রাইজ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
আটারকছড়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য খালেক শরিফ বলেন, আমি প্রকৃত দরিদ্রদের নাম পরিষদে জমা দিয়েছি তবে বর্তমান মেম্বার আব্দুর রহমান এবং সচিব আব্দুস সবুর জালিয়াতি করে এলাকার বিত্তবান লোকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এ বিষয়ে জানতে বর্তমান ইউপি সদস্য আব্দুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
আটারকছড়া ইউনিয়ন পরিষদ সচিব আব্দুস সবুর বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর আমাদের চেয়ারম্যানসহ ইউনিয়নের সব সদস্যদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে এবং আমরা অভিযুক্ত বিত্তবানদের নাম বাতিল করে প্রকৃত দরিদ্রদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছি।
আটারকছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা বলেন, আমরা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ট্যাগ অফিসারসহ সব ইউপি সদস্য এবং লিখিত অভিযোগকারীসহ বিষয়টি সমাধান করেছি। তালিকা থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে প্রকৃত দরিদ্রদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজাম উদ্দীন আহাম্মেদ বলেন, কয়েকটি ইউনিয়ন থেকে বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। চাল বিতরণের আগেই এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছবি: সংগৃহীত
/এআর/








