কক্সবাজারের জলাবদ্ধতা নিরসনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছেন কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরী। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে না পারলে এক মাসের মধ্যে পদত্যাগ করবো- মেয়রের এমন ঘোষণার তিনদিনের মাথায় তিনি এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শহরের নালা দখল করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা প্রভাবশালীদের স্থাপনা (ভবন) তিনি নিজে উপস্থিত থেকে ভাঙতে শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে শত শত উৎসুক জনতা পৌর মেয়রকে স্বাগত জানান।
শহরের বাজারঘাটা এলাকার ব্যবসায়ী জাফর আলম, ফরিদ চৌধুরী ও শামসুল আলম জানান, সরকারি নালা দখল করে কিছু প্রভাবশালী অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করার কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই প্রধান সড়ক হাটু পরিমাণ কাঁদা পানিতে তলিয়ে যায়। এমনকি নালার কাঁদা-পানি দোকানের ভেতর ঢুকে কোটি টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নালার ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করে নালাকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ এই পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। এই প্রথম কোনও পৌর মেয়র সাহস দেখিয়েছেন, অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদের।
উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘অভিযানের শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ ১০টি স্থাপনার অংশ বিশেষ ভাঙা হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে তালিকাভূক্ত ১২৯ দখলদারের দখল উচ্ছেদ করা হবে, সে যত বড়ই শক্তিশালী হোক না কেন।’
শহরের নালা দখলকারীদের বিরুদ্ধে এই অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করে তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এক শ্রেণির প্রভাবশালীরা একের পর এক নালা দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা বানিয়ে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় কক্সবাজার শহরের অধিকাংশ এলাকা। দুর্ভোগ পোহাতে হয় দেশি-বিদেশি পর্যটকসহ সাধারণ মানুষকে। তাই, তাদের কথা বিবেচনা করে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক), জেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে পৌর প্রশাসন এই উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি এই কাজে সবার সহযোগিতা চান।
উল্লেখ্য, গত ১০ মার্চ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় হঠাৎ ভারি বৃষ্টি হলে কক্সবাজারের প্রধান সড়কে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি সড়কে ময়লা পানিতে ভোগান্তি পোহাতে হয় পর্যটকসহ সাধারণ মানুষকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নালা দখল উচ্ছেদের দাবি ওঠে জোরালোভাবে। এ কারণে গত ১৩ মার্চ স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান চৌধুরী। এ সময় তিনি আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে না পারলে মেয়র পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ওই ঘোষণার পর আজ বৃহস্পতিবার থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেন পৌর মেয়র।
/বিএল/
আরও পড়ুন:
বদলে গেছে বাবুল আকতারের জীবন!







