নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জাহাজমারা বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন গুলিবিদ্ধ ও সাত পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৭ জন আহত হন। উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল উদ্দিনসহ ১৮ জনকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত দুইজনকে নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- এসআই কার্তিক দেবনাথ, এএসআই নুরুল ইসলাম, এসআই মো. জাকির হোসেন, কনস্টেবল ফারুক হোসেন, মো. হানিফ, দেলোয়ার হোসেন ও আবু ইউসুফ। গুলিবিদ্ধ আওয়ামী লীগ কর্মীরা হলেন- ইমাম হোসেন (৩৫), আকবর হোসেন (২৮)। হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক শ্রীমান চন্দ্র আচার্য গুলিবিদ্ধ এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস পালন উপলক্ষে হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক অলি উল্যার সমর্থক, জাহাজমারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সিরাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে জাহাজমারা বাজারে আওয়ামী লীগ ও সব সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আলোচনা ও শোভাযাত্রা করে। পরদিন শনিবার রাতে সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর সমর্থক ও বর্তমানে জাহাজমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম বিল্লার নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আলোচনা সভা শেষে বাজারে মিছিল বের করলে উভয়ের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ জাহাজমারা বাজার এবং এর আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে ৭ পুলিশসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২৭ জন আহত হয়।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মজিদ বলেন, খবর পেয়ে হাতিয়া থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শতাধিক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে রাত ১২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে।
/এআর/








