আশুগঞ্জ-সিরাজগঞ্জ জাতীয় গ্রিড লাইনের ২৩০ কেভি ক্ষমতা সম্পন্ন টাওয়ার ধসের পর দুই দিন পার হয়ে গেছে। তবে বিধস্থ টাওয়ারটি অপসারণ বা প্রতিস্থাপনের কাজ কবে শুরু হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউ। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিকল্প পথে ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ দেশের অন্যান্য এলাকার বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোয় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
সোমবার রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে ভৈরবের মেঘনার তীরে বৈদ্যুতিক টাওয়ারটি ধসে পড়ে। তবে বুধবার (৩ মে) দুপুর নাগাদ এর অপসারণ বা প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু হয়নি। টাওয়ারের আশপাশের এলাকায় একজন প্রহরী ছাড়া সংশ্লিষ্ট দফতরের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুম আল বেরুনী জানান, ‘টাওয়ার বিধ্বস্তের ঘটনার পর মঙ্গলবার (২ মে) বিকালে ঢাকার প্রধান প্রকৌশলী দেবাশিষ রায়ের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ভৈরবে বিধস্ত বৈদ্যুতিক টাওয়ার এলাকায় ঘুরে এসেছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বৈদ্যুতিক টাওয়ার অপসারণ ও প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু হবে বলে আমরা আশা করছি।’
তিনি আরও জানান, ‘বর্তমানে দেশের উত্তর এবং দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্যুতের কোনও ঘাটতি নেই। ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ দেশের অন্যান্য এলাকার বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোথাও লোডশেডিং এরও খবর পাওয়া যায়নি।’
এদিকে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন জানান, ‘আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন থেকে প্রতিদিন প্রায় ১২শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। তবে চাহিদা অনুযায়ী প্রতিদিন ৮শ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। গত সোমবার রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে ভৈরবের মেঘনার তীরে ২৩০ কেভি ক্ষমতা সম্পন্ন আশুগঞ্জ-সিরাজগঞ্জ জাতীয় গ্রিড লাইনের টাওয়ারটি ধসে পড়েছে। এই লাইন দিয়ে প্রতিদিন ২শ থেকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তবে এখন বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সব জায়গায় স্বাভাবিক রয়েছে।’
এদিকে স্থানীয়রা জানান, বৈদ্যুতিক টাওয়ারটি ধসে যাওয়ারে কারণে বড় আকারের মোটা তার মেঘনা নদীর ওপর পড়ে থাকায় নদীর এক পাশে নৌ-চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
/এফএস/
আরও পড়ুন-








