ঢাকা-সিলেট এবং কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশের ৭৬ কিলোমিটার রাস্তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যে কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। এ কারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া খাটিহাতা হাইওয়ে থানার একটি প্রতিবেদনে জানা গেছে, জানুয়ারি ২০১৬ থেকে মার্চ ২০১৭ পর্যন্ত মহাসড়কের দুটি স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ৫৭ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও ৯৭ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। এ দুর্ঘনার জন্য যানবাহনের বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, মহাসড়কের অবৈধ যানবাহন চলাচল এবং মহাসড়কের নির্মাণ ক্রটিকে দায়ি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক পরিবহন ও বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি অহিদ মিয়া জানান, মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচলের কারণে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। ফলে মহাসড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়াও মহাসড়কে অবৈধ স্থাপনা এবং আঁকা-বাঁকা রাস্তাসহ খানা-খন্দের কারণে এই দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে তিনি মনে করেন।
জেলা বাস-ট্রাক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান চৌধুরী জানান, ঢাকা-সিলেট এবং কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কটি নাম মাত্র মহাসড়ক। এই সড়কে দুটি যান পাশাপাশি ক্রস করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয়। দুটি গাড়ি ক্রস করার সময় পেছনের গাড়ি সামনের গাড়িকে স্বাভাবিকভাবে ওভারটেক করতে পারে না। এর জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কোনও গাড়ি অপেক্ষা না করে ওভারটেক করতে গেলে অনেক সময় দুর্ঘটনায় পড়ে। এছাড়া মহাসড়কে নছিমন, করিমন, টবটি, সিএনজি অটোরিকশা বন্ধের ব্যাপারে উচ্চ আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপরও এসব যানবাহন কোনও ধরনের বাধা ছাড়াই মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
সড়ক দুর্ঘটনার জন্য বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, মহাসড়কের অবৈধ যান চলাচলসহ নির্মাণ ত্রুতি ও মহাসড়কের পাশে অবৈধ পাকিংকে দায়ী করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া খাটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমরা প্রতিনিয়ত পদক্ষেপ নিচ্ছি। কিন্তু কোন কোন এলাকায় প্রভাবশালীদের কারণে আমাদের চেষ্টা সফল হচ্ছে না। যেমন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিশ্বরোড মোড় থেকে আশুগঞ্জ টোল প্লাজা পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার এলাকায় অসংখ্য চাতাল রয়েছে। এসব চাতালে প্রতিদিন অসংখ্য ট্রাক লোড আন-লোড করা হয়। যে কারণে মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে ট্রাক পার্কি করে রাখা হয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়িত মামলা দিচ্ছি। কিন্তু মামলা দিয়েও এসব রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। গত ১৩ মাসে ৫৭ জন নিহত এবং ৯৭ জন আহত হয়েছেন।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ টোল প্লাজা হতে হবিগঞ্জের মাধবপুর পর্যন্ত-৩৪ কিলোমিটার এবং কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া খাটিহাতা বিশ্বরোড মোড় হতে কসবার কালামোড়া ব্রিজ পর্যন্ত ৪২ কিলোটারসহ মোট ৭৬ কিলোমিটার সড়কের অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং সড়কের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে বলে ওসিসহ সংশ্লিষ্টরা জানান ।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: পঁচিশে বৈশাখে নতুন সাজে পতিসরের কাছারিবাড়ি








