দীর্ঘ আড়াই মাসেও ধরা পড়েনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার অলিপুর গ্রামের গৃহবধূ নিলুফা আক্তার হত্যা মামলার আসামিরা। নিলুফাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে যৌতুকের টাকা এনে দিতে রাজি না হওয়ায় শ্বশুরবাড়িতে নিলুফাকে গলাটিপে ও পিটিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
নিলুফার বাবাসহ পরিবারের লোকজন আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। যদিও পুলিশ বলছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
অভিযোগ সূত্রে গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মো. আবুল খায়েরের মেয়ে নিলুফার আক্তারের সঙ্গে বিজয়নগর উপজেলার অলিপুর গ্রামের মো. আব্দুস সাত্তারের ছেলে মো. সৈকত হোসেনের বিয়ে হয় গত ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে। সম্প্রতি সৈকত তার স্ত্রীর কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দিতে রাজি না হওয়ায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি শ্বশুরবাড়িতে নিলুফাকে গলাটিপে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর জেলা সদর হাসপাতালে লাশ ফেলে পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় ১০ ফেব্রুয়ারি নিলুফার বাবা আবুল খায়ের বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে বিজয়নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে মামলার পর নিলুফাকে শ্বাসরোধ্ করে হত্যা করা হয় বলে ময়না তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিলুফার বাবা আবুল খায়ের বলেন, ‘যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে তার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন হত্যা করেছে। পুলিশ আমাদের বলছে পালিয়ে যাওয়ার কারণে কোনও আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই।’
আবুল খায়ের আরও জানান, নিলুফার প্রায় দেড় বছর বয়সি একটি ছেলে সন্তান থাকলেও হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তার কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিজয়নগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল হাসান জানান, ‘নিলুফার শশুড় বাড়ির লোকজন বলে আসছিল তিনি ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিলুফাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ আছে। নিলুফার স্বামী, শ্বশুরসহ বাড়ির সবাই ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমগুলো বন্ধ থাকা ও মোবাইল ফোনগুলো ব্যবহার না করায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদেরকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।’
/এফএস/
আরও পড়ুন-
‘মোরা’র আঘাতে কক্সবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ৫২ হাজার ৫৩৯








