২০১৫ সালে রাঙামাটি সরকারি কলেজে ভর্তি হন টুম্পা। ওঠেন একমাত্র ভাইয়ের বাসায়। দিনমজুর বাচ্চু মল্লিকের তিন মেয়ে এক ছেলের মধ্যে টুম্পা ছিল সবার ছোট। কলেজের ইংরেজি শিক্ষকের বাসায় প্রাইভেট পড়তে গিয়ে তার পরিচয় হয় অভির সঙ্গে। তারপর প্রেম ও পরিণয়। পরিবারের অমতে গত বছরের ১৩ নভেম্বর বিয়ে করেন টুম্পা-অভি। ‘অল্প বয়সে’ একমাত্র ছেলের এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি অভির বাবা সিদ্দিক সওদাগর। ছেলের বিয়ের এক সপ্তাহের মধ্যে স্ট্রোক করে মারা যান তিনি। পরে এলাকাবাসীর কথায় টুম্পাকে ঘরে তোলে অভির পরিবার। তবে এরপরই ঘটনা মোড় নেয় অন্যদিকে।
সংসার শুরুর পর অভি-টুম্পার বনিবনা হচ্ছিল না। কারণ হিসেবে জানা গেল- একাধিক মেয়ের সঙ্গে প্রেম করছিল অভি। বিষয়টি বুঝে ফেলে টুম্পাও। বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় সে। গত ১৭ মে রাতে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে অন্য মেয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলছিল অভি। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় দুজনের মধ্যে। ছয় মাসের অন্তঃস্বত্তা টুম্পা বোঝানোর চেষ্টা করলে রেগে যায় অভি। এক পর্যায়ে টুম্পার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। চিৎকার শুনে ছুটে আসে পরিবারের লোকজন। আগুন নেভায় তারা। আগুনে টুম্পার দেহের ষাট শতাংশ পুড়ে গেলেও তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। বরং অভি ফোন করে টুম্পার ভাই ও বাবাকে। ভাই এসে হাসপাতালে নিলেও বাঁচানো যায়নি টুম্পাকে। গর্ভে ছয় মাসের সন্তানসহ মারা যান তিনি।
টুম্পার বাবা মো. বাচ্চু মল্লিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “গত ১৭ মে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মেয়ে জামাই মাহামুদুল হাসান আমাকে ফোন করে বলে ‘আপনার মেয়ে নিজে তার শরীরে আগুন দিয়েছে’। যেহেতু আমি গোপালগঞ্জ থাকি তাই সঙ্গে সঙ্গে আমার ছেলেকে (মো. সামমান মল্লিক) সেখানে যেতে বলি।’
সামমান মল্লিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি ও আমার প্রতিবেশি এক বড় ভাই খবর পেয়ে অভিদের বাসায় যাই। পথেই অভির ফোন পাই, সে আমাকে দ্রুত তাদের বাসায় যেতে বলে। তবে কারণ বলেনি। বাসায় গিয়ে দেখি সবাই চুপচাপ। এক রুমে বসে আছে। অভির খালাতো বোন মুন্নি আমাকে বলে- ‘দেখেন আপনার বোন নিজের গায়ে আগুন দিয়েছে’। আমি দ্রুত তার রুমে গিয়ে দেখি রুমের ফ্যান ও লাইট সব বন্ধ, ওকে দেখা যাচ্ছে না। মোবাইলের লাইট দিয়ে দেখার চেষ্টা করেই চিৎকার করে উঠি। হাত ও পায়ের সব জায়গা পুড়ে গেছে। সে কোনও কথা বলছে না। রাত প্রায় ১টার দিকে রাঙামাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাই। কর্তব্যরত ডাক্তার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সেখানে ভর্তি করার পর জানা যায় তার পেটে থাকা বাচ্চাটি আগুনের তাপে মারা গেছে। অপারেশনের সময় টুম্পাকেও আর বাঁচানো যায়নি।'
এই ঘটনার পর থেকে অভি পলাতক রয়েছে। রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সৌরজিৎ বড়ুয়া বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘ঘটনার পর থেকে আসামিসহ পরিবারের লোকজন পলাতক। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি আসামিকে ধরতে পারবো।’
এ ঘটনায় ২৫ মে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, (সংশোধিত ২০০৩) ১১ (ক) ধারায় হত্যা মামলা (নং-১৮) করা হয়েছে।
/এনআই/এফএস/
আরও পড়ুন-
সংসদে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট







