কেউ কেউ সঠিক তথ্য সংগ্রহ না করে ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামে বসে রাঙামাটির ঘটনা দেশবাসীর কাছে উপস্থাপন করছেন বলে মন্তব্য করে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন, ‘আসলে বাস্তব অবস্থা তা নয়। দুর্যোগের পর পর কেউ হয়তো কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির চেষ্ট করেছিল। কিন্তু আমরা তা নিয়ন্ত্রণ করেছি। বর্তমানে রাঙামাটিতে প্রচুর পরিমাণ খাদ্য মজুদ আছে। এছাড়াও ৩০ হাজার লিটার অকটেন আনা হয়েছে। যা দিয়ে আগামী এক মাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। ’
দুর্যোগের সময় সবাইকে মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘খাদ্যের কোনও সঙ্কট নেই। যোগাযোগ সমস্যা সমাধানে কাপ্তাই চ্যানেলে লঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়েছে। লঞ্চে বিনামূল্যে পণ্য পরিবহন করা হয়। রাঙামাটির সমস্যা সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসনকে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসন সহযোগিতা করছে।
সরেজমিন দেখা যায়, শহড়ে হালকা যানবাহন চলাচল করেছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বাজার সমিতির মনিটিংর কমিটি কাজ করছে। এছাড়াও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর অবস্থাও এখন স্বাভাবিক বলে জানিয়েছেন সেখানে আশ্রয় নেওয়া লোকজন।
রাঙামাটির ১৮টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় আড়াই হাজার লোক আশ্রয় নিয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও রেড ক্রিসেন্টের মধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়ার পর শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে।
সোমবার সকালে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে দেখা যায়, তাদের দুপুরের খাবার ১২টার মধ্যে এবং রাতের খাবার ৯টার মধ্যে দেওয়া হয়। এছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিক্যাল টিম নিয়মিত তাদের স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছে।
সেনাবাহিনী ও সড়ক বিভাগ রাস্তা মেরামতের কাজ করছে। তারা আশা করছেন দুই একদিনের মধ্যেই রাঙামাটি-চট্টগ্রামের প্রধান সড়ক দিয়ে হালকা যানবাহন চলাচল করতে পারবে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ স্বাভাবিক রয়েছে।
বনরূপা বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবু সৈয়দ জানান, জেলা প্রশাসনের ও বাজার সমিতির মনিটিংর কমিটির জন্য দ্রব্যমূল্য এখন অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। কিভাবে আরও সহনীয় পর্যায়ে নেওয়া যায়, সে ব্যাপারে কাজ করছি। কিছু ব্যবসায়ী বেশি মুনাফার আশায় দ্রব্য মূল্য বাড়িয়েছিল। কিন্তু আমার তা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছি। কিছু ব্যবসায়ী আছে যারা আমাদের সমিতির কেউ না, কাঁচা সবজি এনে বাজারে বিক্রি করে। মূলত তারাই এই সমস্যা সৃষ্টি করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা খবর রাখছি, সমিতির কোনও সদস্য যদি ইচ্ছাকৃতভাবে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ‘
রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জাতীয় দৈনিক সংবাদের চট্টগ্রাম অঞ্চল প্রতিনিধি সুনীল কান্তি দে বলেন, ‘রাঙামাটির অবস্থা অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। আশা করছি রাঙামাটি-চট্টগ্রামের সড়কটি চালু হলে সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
অন্যদিকে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা লোকজন বাড়ি ফিরছে এবং কাজকর্ম করছে। কিন্তু বৃষ্টি শুরু হলেই তারা আবার আশ্রয় কেন্দ্রে ফিরে আসছে।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত








