আজ বুধবার (৯ আগস্ট) বিশ্ব আদিবাসী দিবস। পাহাড়িদের সুরক্ষায় জাতিসংঘ ১৯৯৩ সালে আদিবাসী বর্ষ ও ১৯৯৪ সালের ৯ আগস্টকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ঘোষণা করে। সে থেকে নিজ উদ্যোগে আদিবাসী স্বীকৃতির দাবিতে সারাবিশ্বের সঙ্গে তিন পার্বত্য জেলার ১১টি জাতিস্বত্বারা দিবসটি পালন করে আসছে। সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবিতে এখনও অনড় পাহাড়িরা।
উপনিবেশিক সময়ে শতাব্দিকাল ধরে বৈষম্য-নিপীড়ন ও জাতিগত আগ্রাসনে ৭০টি দেশে প্রায় ৪০ কোটি পাহাড়ির জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে। বিলুপ্ত হয়ে যায় কোনও কোনও পাহাড়ির অস্তিত্ব। আর পাহাড়িদের এ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য ২০১০ সাল থেকে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) উদ্যোগে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের স্বীকৃতি দাবির জন্য আদিবাসী দিবসটি তিন পার্বত্য জেলায় পালন করে আসছে।
জেএসএস’র নেতাকর্মীরা জানায়, অনেকে মনে করছেন জেএসএস আদিবাসী স্বীকৃতি আদায়ের জন্য, অধিকার আদায়ের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য থেকে দূরে সরে গেছে। এতে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন ঝিমিয়ে পড়েছে।
জেলা পরিষদ সদস্য চিংইয়ং ম্রো বলেন, ‘স্বাধীনতার দুই বছর পর থেকে পার্বত্য অঞ্চলে জেএসএস’র নেতাকর্মীরা অধিকার আদায়ের আন্দোলন করে আসলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সংবিধান সংশোধনের সময়কাল থেকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে দাবি জানিয়ে আসছে।’
মানবাধিকার কর্মী ডলাই প্রু নেলী বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, ভূমি সমস্যা, জীবনের অধিকার দাবি জানিয়ে আসছি। এসব বিষয় নিয়ে সরকার যেভাবে কাজ করছেন এতেই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা খুশি।’
তবে জেএসএস সমর্থিত ভূমি অধিকার আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক জুমলিয়ান আমলাই বলেন, ‘জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী আমরা আদিবাসী। স্বীকৃতির দাবি আন্দোলন সরকার গুরুত্ব না দিলেও আজ হোক বা কাল হোক আমরা আদায় করেই নিবো।’
জেএসএস’র নেতাকর্মীরা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতির দাবি করে আসলেও এ বিষয়ে কোনও দুঃখ কষ্ট নেই সাধারণ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের। খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকলেই তারা সুন্তুষ্ট।
/এআর/







