সূর্যমুখী তেলের সঙ্গে তরল কোকেন আমদানির আলোচিত মামলায় অধিকতর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। বুধবার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মো. শাহে নূর এর আদালতে পুলিশের দাখিল করা ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষ। চোরাচালানের ধারায় চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের দায়ের করা অভিযোগপত্র বাতিল করে আরও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আইনজীবীদের আবেদনের পর আদালত আগামী ২৩ আগস্ট মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।
এর আগে ২০১৫ সালের ১৯ নভেম্বর একই মামলার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধেও নারাজি দিয়েছিল রাষ্টপক্ষ। পরে তাদের আবেদনের কারণে ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর ওই অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে মামলাটির অধিকতর তদন্তের জন্য র্যাবকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফখরুদ্দিন চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মামলার নথিপত্র ও গোয়েন্দা পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রের তথ্যের মধ্যে মিল নেই। আমাদের মনে হয়েছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটি যথাযথভাবে তদন্ত করেননি। তাই আমরা ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দিয়ে আদালতে অধিকতর তদন্তের আবেদন করেছি। আগামী ২৩ আগস্ট এ মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।’
২০১৫ সালের ৭ জুন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি কনটেইনার আটকের পর সিলগালা করে দেয় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর। বলিভিয়া থেকে মেসার্স খান জাহান আলী লিমিটেডের নামে আমদানি করা সূর্যমুখী তেলবাহী কন্টেইনারটি জাহাজে তোলা হয় উরুগুয়ের মন্তেভেদিও বন্দর থেকে। সেখান থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে একই বছরের ১২ মে পৌঁছায় চট্টগ্রাম বন্দরে। পরে আদালতের নির্দেশে কন্টেইনার খুলে ১০৭টি ড্রাম থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে ঢাকার বিসিএসআইআর ও বাংলাদেশ ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষায় এতে তরল কোকেনের অস্তিত্ব ধরা পড়ে।
এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৮ জুন চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর থানায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খান জাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ ও কর্মচারী গোলাম মোস্তফা সোহেলকে আসামি করে মামলা দায়ের করে পুলিশ। এই মামলায় ১৯ নভেম্বর এজাহারভুক্ত আসামি নূর মোহাম্মদকে বাদ দিয়ে আটজনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (দক্ষিণ) মো. কামরুজ্জামান। ৭ ডিসেম্বর আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ না করে র্যাবকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে এ বছরের ৪ এপ্রিল মামলায় নূর মোহাম্মদকে অভিযুক্ত করে মহানগর হাকিম আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করে র্যাব-৭।
/এফএস/
আরও পড়ুন- আসামির প্রতি পুলিশের আচরণ কেমন হবে








