খুন করে লোহার ড্রামে লাশ রেখে সিমেন্ট দিয়ে ঢালায় করে দিঘিতে ফেলে দেওয়াল ঘটনায় দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম ।
গ্রেফতার দুই আসামি হলেন- মো. ইমাম হোসেন মজুমদা ওরফে শিশির (২৭) ও মো. শফিকুর রহমান ওরফে শফি (৪৬)। শিশির কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট থানার শ্রীরামপুর গ্রামের হুমায়ুন কবিরের ছেলে এবং শফি সাতকানিয়া উপজেলার খাগরিয়া গ্রামের মৃত আশরাফ মিয়ার ছেলে।
সহকারী পুলিশ কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মামলার তদন্তে ওই হত্যাকাণ্ডে সঙ্গে গ্রেফতার দুই জনের সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি ওঠে আসে। বিষয়টি নিশ্চত হওয়ার পর পুলিশ বৃহস্পতিবার তাদের গ্রেফতার করে।’
পুলিশ জানায়, ১৩ আগস্ট উদ্ধার করা ড্রামে থাকা লাশটি ইমরানুল করিম ইমন (২৫) নামে এক যুবকের। ইমন রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রেজাউল করিমের ছেলে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার দুই জন হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুবলীগ কর্মী অমিত মুহুরীসহ আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছেন। পুলিশ অপর আসামিদেরকে ধরতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেফতার দুই জন পুলিশকে জানিয়েছে যুবলীগ কর্মী অমিত মুহুরীর পূর্ব বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে ইমনকে হত্যা করেছে। গত ৯ আগস্ট ভোর ৫টা থেকে ৬টার অমিত মুহুরীর বাসায় ইমনকে হত্যা করা হয়। তার কোতোয়ালি থানাধীন নন্দনকানন ৩ নম্বর গলি’র হরিশ দত্ত লেইন বেঙ্গল হোল্ডিংয়ের ৬ষ্ঠ তলার বাসায় ইমনকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাত ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তারা দুইজনসহ আরও কয়েকজন অমিত মুহুরীকে সহায়তা করেছে। পরবর্তীতে লাশ গুম ও ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে স্টিলের তৈরি ড্রামে ইমনের লাশ ভরে ভেতরে চুন ও এসিড দিয়ে ড্রামের উপরে সিমেন্ট বালু দিয়ে ঢালাই করে দেওয়া হয়। পরে ১২ আগস্ট রাত আড়াইটার দিকে কোতোয়ালি থানাধীন জুবলী রোডের রাণীর দিঘিতে লাশ ভর্তি ড্রামটি ফেলে আসা হয়।
অমিত যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তার নামে কোতোয়ালী থানায় ৮টি মতো মামলা রয়েছে। সিআরবিতে রেলওয়ের টেন্ডার নিয়ে জোড়া খুনের মামলায় ২০১৫ সালের ৫ নভেম্বর তাকে গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরে অমিত জামিনে বেরিয়ে আসে। গত ২৮ এপ্রিল রাতে ঝাউতলায় স্থানীয় তরুণরা মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। ওই মারামারিতে অমিতের অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করার চিত্র ভিডিও ফুটেজে পেয়ে ২৫ মে তাকে গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। কিন্তু ২৬ জুন অমিত আবার জামিনে বেরিয়ে আসেন।
উল্লেখ্য গত ১৩ আগস্ট স্থানীয়রা খবর দিলে নগরীর রাণীর দিঘি থেকে একটি ড্রাম উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই ড্রামটি কাটলে তাতে অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধ গলিত লাশ দেখতে পায়। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানার এসআই মো. শামসুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। ওই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এই দুই ব্যক্তির সম্পৃক্ততা খুঁজে পায় পুলিশ।
আরও পড়তে পারেন: রংপুরে যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত ২








