ধান, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, ভুট্টা, মারফা ও কলাসহ হরেক রকমের সব জুমের টাটকা সবুজ ফসল দিয়ে বম সম্প্রদায় পালন করলো এ বছরের প্রথম নবান্ন উৎসব। আর এ উৎসবকে ঘিরে আজ রবিবার (সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বম সম্প্রদায়ের শিশু, তরুণ-তরুণী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সবাই একত্রে সদরের লাইমি পাড়ার ইভেনজেলিক্যাল চার্চে ধর্মীয় প্রার্থনা ও নেচে গেয়ে মেতে উঠেছে নবান্নের উৎসব আনন্দে।
প্রতি বছর মারমা, বম ও ম্রো সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন জাতির পাহাড়িরা জুমের নতুন ফসল ঘরে তোলার পরপরই আয়োজন করে এই নবান্ন উৎসবের। প্রত্যেকেই নিজ নিজ ধর্ম ও রীতি-নীতি অনুসারে কেউ আগে আর কেউবা পরে পালন করে এ নবান্ন উৎসব। এ বছর প্রথম নবান্ন উৎসব পালন করলো বম সম্প্রদায়।
এ বিষয়ে বম সম্প্রদায়ের কিশোরী প্রীতিবম বলেন,‘প্রতিবছরের মতো আমরা এ বছরও নবান্ন উৎসব পালন করছি। এ উপলক্ষে আমরা সবাই প্রথমে গির্জায় গেলাম, সেখানে প্রার্থনা শেষে আমরা সবাই একত্রে মিলিত হয়ে সংগৃহিত জুমের ফসল একত্র করে এক সঙ্গে মিলে মিশে খাই।’
আরেক কিশোরী রেনু বম বলেন, ‘জুম থেকে নতুন ফসল তোলার পর আমরা আজ এ নবান্ন উৎসব করছি। আমরা এ উৎসব উপলক্ষে সবাই একত্র হতে পেরে খুবই আনন্দিত।’
লাইমি পাড়ার ইভেনজেলিক্যাল চার্চের চেয়ারম্যান বলেন, ‘জুমের প্রথম ফসল দিয়ে আমরা যুগ যুগ ধরে নবান্ন উৎসব করে আসছি। এতে করে আমরা সবাই একত্রে মিলিত হতে পারি। একবেলা সকলে মিলে আনন্দের মাধ্যমে জুমের প্রথম খাবার খেতে পারি। এগুলো ছাড়াও আমাদের সবার উদ্দেশ্য থাকে আগামী বছরেও যেন জুমের ভাল ফলন হয় সে লক্ষ্যে চার্চে সমবেত প্রার্থনা করা।’
লাইমি পাড়ার ইভেনজেলিক্যাল চার্চের পালক পাস্টার রোয়ালচুংনুং বম বলেন, ‘আমরা প্রতি বছরই জুমের প্রথম ফসল তোলার পর নবান্ন উৎসব করি। এ বছর আমাদের জুমের ফসল আগে উঠেছে, তাই আমরা অন্যদের তুলনায় আগে নবান্ন উৎসব করতে পেরেছি।’








