ফেনীর মহিপালে দেশের প্রথম ছয় লেনের ফ্লাইওভার নির্মিত হচ্ছে। নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। আগামী বছরের শুরুতেই এটি চালু হবে বলে আশা করছেন নির্মাণ কাজ সংশ্লিষ্টরা। নির্ধারিত সময়ের অন্তত ছয় মাস আগেই অবশিষ্ট কাজও শেষ হবে বলে আশা করছেন তারা।
১৫৭ কোটি ৯৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৯ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির কাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবদুল মোনেম লিমিটেড। ২০১৫ সালের নভেম্বরে শুরু হয় ফ্লাইওভারটির নির্মাণকাজ। এটি নির্মাণে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এরই মধ্যে ফ্লাইওভারের ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এটি চালু হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশে যাত্রীদের যানজটের ভোগান্তি কমবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,ফ্লাইওভারের মূল কাঠামোর ২০টি পিলারের নির্মাণ শেষ হয়েছে। ১৩২টি গার্ডারের মধ্যে বসানো হয়েছে ৩৮টি। আরও ৪২টি গার্ডার তৈরি রয়েছে। গার্ডার বসানোর জন্য ১০০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ও ৩৫ টন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি হাইড্রোলিক ক্রেন ব্যবহার করা হচ্ছে। ১০ পিয়ার ক্যাপের মধ্যে আটটি তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া ৫০৬টি ক্রস গার্ডারের মধ্যে দেড়শ ক্রস গার্ডার স্থাপন করা হয়েছে।
ফ্লাইওভারের দুই পাশে দুই হাজার ২১০ মিটার ড্রেনের মধ্যে শেষ হয়েছে দেড় হাজার মিটারের কাজ। এছাড়া ফ্লাইওভারের নিচে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এক হাজার ৩২০ মিটারের দুইটি সড়কের পিচ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। সড়ক দুইটি ঢাকা ও চট্টগ্রাম অভিমুখী গাড়ি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ফ্লাইওভারে দুইটি ক্রেন দিয়ে গার্ডার বসানোর কাজ চলছে।
সেতু মন্ত্রণালয়ের এসডব্লিউবির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজাউল মজিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নির্ধারিত সময়ের অন্তত ছয় মাস আগে ফ্লাইওভারটি চালু করতে ৬৫০ শ্রমিক দিনরাত কাজ করছেন।
প্রকল্প সূত্র জানায়, মহিপালের প্রবেশপথ চাঁড়িপুর রাস্তার মাথা থেকে মহাসড়কের ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় পর্যন্ত ফ্লাইওভারটি নির্মাণ হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রামমুখী ফ্লাইওভারের মূল কাঠামোর দৈর্ঘ্য ৩৭০ মিটার। এছাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলের জন্য ১৪৫ মিটারের দুটি র্যাম্পের কাজ শুরু হয়েছে। এরপর ফ্লাইওভারের দুই মাথায় ১৪৫ মিটার করে ঢাল নির্মাণ করা হবে।
এদিকে, বিভিন্ন সময় প্রকল্পটি দেখতে এসে কাজের অগ্রগতি ও মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী জানান, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সার্বিক সহযোগিতায় ফ্লাইওভারটি নির্মাণ হওয়ায় পাল্টে যাচ্ছে ফেনীর দৃশ্যপট। এজন্য তিনি সেতুমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।








