নোয়াখালীতে ‘ইভটিজিং’ এর প্রতিবাদ করায় এক কলেজ ছাত্রীর বাবা-মাসহ ওই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখমের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর)বিকালে জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়নের মনপুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে রাজগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পুলিশ বলেছে ইভটিজিং নয় পারিবারিক বিরোধ থেকে এ ঘটনা ঘটেছে।
আহতরা হলেন,নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া ইসলাম মুন্নি (১৮), তার বাবা মো. ইউসুফ, মা জেসমিন আক্তার, বোন শারমিন আক্তার ও মামি ডলি আক্তার।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই ছাত্রীর বাবা মো. ইউসুফ জানান, পার্শ্ববর্তী আলামপুর গ্রামের রফিক উল্যাহর ছেলে রাজু দীর্ঘদিন ধরে তার কলেজ পড়ুয়া মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি তিনি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে জানিয়ে ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে তার মেয়ে ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় পেছন থেকে রাজু তাকে ডাকতে থাকে। রাজুর ডাক না শুনে মেয়ে দ্রুত হেঁটে বাড়ির কাছাকাছি চলে আসে। তখন বখাটে রাজু একটি লাঠি নিয়ে দৌড়ে এসে তার মেয়েকে মারতে থাকে। মেয়ের চিৎকার শুনে তিনি, তার স্ত্রী, ছোট মেয়ে ও শ্যালকের স্ত্রী ছুটে আসেন। তারা আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজুর ভাই সাজু, স্থানীয় বখাটে রিয়াজ, জাকের হোসেন ও বাবুসহ কয়েকজন ছুরি ও লাঠি নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে। এ সময় বখাটেরা ছুরি দিয়ে তাকে ও তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।বখাটেরা তার দুই মেয়ে ও শ্যালকের স্ত্রীকে বেদম মারধর করে। বর্তমানে তিনি এবং তার স্ত্রীসহ আহত পাঁচজনই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
কলেজ ছাত্রীর মামা আল আমিন বলেন,‘তিনি তখনও বাড়িতেই ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের চিৎকার শুনে তিনি বাইরে আসেন। এ সময় আশপাশ থেকেও লোকজন আসতে থাকলে বখাটেরা চলে যায়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে বখাটেরা তাদের বাধা দেয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
তিনি জানান,আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে ছেলেকে নিয়ে তিনি ওষুধ কিনতে যান। এসময় হাসপাতালের প্রধান ফটকে থেকে ওই বখাটেরা তাকে অপহরণের চেষ্টা করে। পরবর্তীতে আশপাশের লোকজন তাকে রক্ষা করে। বিষয়টি বেগমগঞ্জ থানায় জানানো হয়েছে।
রাজগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বৈদ্যুতিক মিটার বসানোকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ইভটিজিং এর কোনও ঘটনা আমার জানা নেই।
বেগমগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুব মোর্শেদ জানান, খবর পেয়ে তিনি দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
বিষয়টি ইভটিজিং নয় দাবি করে তিনি বলেন, ‘হামলাকারী ও আহতরা নিকট আত্মীয়।পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তারপরও বিষয়টি ভালোভাবে তদন্ত করা হবে। এ ঘটনায় আহতদের থানায় মামলা দিতে বলা হয়েছে।’
আরও পড়তে পারেন: যবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষার ইউনিটভিত্তিক তারিখ পুনঃনির্ধারণ








