ফেনীর সোনাগাজীর সুকুনীয়া খালের ওপর প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে স্লুইস গেট নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদেরকে গুলি করার হুমকি দেয়।
সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান জেড. এম. কামরুল আনাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্লুইস গেটটি নির্মাণে অনিয়মের বিষয় স্থানীয়দের অভিযোগ পেয়ে বুধবার (২৪ জানুয়ারি) প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে যাই। সেখানে দেখতে পাই স্লুইস গেটটি নির্মাণে নিম্নমানের কংক্রিট, রড ও স্বল্প পরিমাণ সিমেন্ট দিয়ে নির্মাণ কাজ করছে কয়েকজন শ্রমিক। তাৎক্ষণিক বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলীকে মোবাইলে জানাই। একই সঙ্গে দরপএ অনুযায়ী কাজটি সম্পন্ন করার অনুরোধ করেছি।’
স্থানীয় বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন জানান, শুরুতেই নিম্নমানের কাজ শুরু করায় এলাকাবাসী প্রতিবাদ করে । পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। ফের ওইসব নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে ঠিকাদারি কাজ শুরু করায় তারা এর প্রতিবাদ করে। এ ঘটনায় ঠিকাদার তাদেরকে গুলি করার হুমকি ও মামলার ভয় দেখায়।
সোনাগাজি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন রিপন বংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা পরস্পরের যোগসাজসে স্লুইস গেটটি পুনঃনির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বিষয়টি বার বার জানানোর পরও তা কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না।’
তবে এসব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডন কনস্ট্রাকশনের মালিক আশরাফুল ইসলাম আবীর। তিনি বলেন, ‘বুয়েটের প্রকৌশলী দ্বারা পরীক্ষিত নির্মাণ সামগ্রী দিয়েই স্লুইস গেটটির নির্মাণ কাজ চলছে। এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা কাজের নিয়মিত তদারকি করছেন। সাইটে লোহার রড দীর্ঘদিন পড়ে থাকার কারণে বাতাসে রঙের পরিবর্তন হওয়ায় স্থানীয়রা এই নিয়ে ভুলক্রমে প্রশ্ন তুলেছে। দলগত নিয়ম মেনেই স্লুইসটি নির্মাণ কাজ চলছে।’
এ ব্যাপারে ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কহিনুর আলম বলেন, ‘এর আগে ২০১৭ সালের অক্টোবরে উক্ত স্লুইস গেটটির নির্মাণে কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডন কনস্ট্রাকশন। শুরুতে নিম্নমানের রড, স্বল্প পরিমাণ সিমেন্ট ব্যবহার করে কাজ করার অভিযোগ তুলে এলাকাবাসী। ফলে সংশ্লিষ্ঠ বিভাগ নির্মাণ কাজ সাময়িক বন্ধ করে দেয়। দরপত্র অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিলে আবার কাজ করার অনুমতি দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরপরেও ঠিকাদার কাজটি করার ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম বা দুর্নীতির আশ্রয় নিলে তার কার্যাদেশ বাতিল করা হবে।’
সূএ জানায়, জেলার সোনাগাজী উপজেলার ৫নং চরদরবেশ ও ৬নং চরচান্দিয়া ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থল সুকুনীয়া খালের ওপর প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ৯নং স্লুইস গেট। এটি বাস্তবায়ন হলে সোনাগাজী উপজেলার ৫নং চরদরবেশ, ৬নং চরচান্দিয়া ও ৪নং মতিগঞ্জ ইউনিয়নের পানি নিষ্কাশন ও সমুদ্রের জোয়ারের নোনা পানি থেকে রক্ষাসহ অধিক ফসল উৎপাদনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন হবে।’
এর আগে একই স্থানে ১৯৬০ এর দশকে একটি স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়। ১৯৮৫ সালে স্লুইস গেটটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে ৮৬ সালে তা মেরামত করা হয়। ১৯৯২ সালে উক্ত স্লুইস গেটটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ১৯৯৩ সালে ফের মেরামত করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ২০১৭ সালের জুন মাসে অতিবৃষ্টি ও অযত্নে পড়ে থাকা স্লুইস গেটটি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। যার কারণে ওই অঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পরে উক্ত স্লুইস গেটটি এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডন কনস্ট্রাকশন।








