রাঙামাটিতে অপহৃত দুই নেত্রীকে উদ্ধারের দাবিতে নানিয়ারচরে আয়োজিত সমাবেশে নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনেছে তিন নারী সংগঠন। এই ঘটনায় তারা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। শুক্রবার (৩০ মার্চ) বিকালে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির দফতর সম্পাদক নীতি শোভা চাকমার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
হামলার ঘটনায় যে তিন নারী সংগঠন প্রতবাদ জানিয়েছেন তারা হলেন- হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নিরূপা চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সাধারণ সম্পাদক কাজলী ত্রিপুরা ও ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শান্তি প্রভা চাকমা।
বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করেন, শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে নানিয়ারচর কলেজ মাঠে অপহৃত দুই নারী নেত্রীকে উদ্ধারের দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে আগত লোকজনের উপর বিনা উসকানিতে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা হামলা চালিয়ে বেধড়ক লাঠিপেটা করে। এতে অনেকেই আহত হন।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ঢাকা থেকে সমাবেশে সংহতি জানাতে আসা বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পপি, নারী সংহতির সদস্য শাহিদা হক, বিপ্লবী নারী মুক্তির আহ্বায়ক নাসিমা নাজনীন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি এম এম পারভেজ লেলিন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পদক মাসুদ রানা, ছাত্র ফেডারেশনের (গণসংহতি) শওকত এবং হিল উইমেন্স ফেডারেশনের জেলা কমিটির সদস্য রনিকা চাকমা ও জনি চাকমাকে সমাবেশ থেকে আটক করা হয়।
এ ঘটনাকে ‘ন্যাক্কারজনক’ উল্লেখ করে বিবৃতিতে তারা জানায়, সরকারের এটা মনে রাখা দরকার যে, অন্যায়-দমন পীড়ন চালিয়ে ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন দমন করা যায় না। যতই দমন-পীড়ন চালানো হবে ততই পার্বত্য চট্টগ্রামের আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়বে।
বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে অপহৃত দুই নেত্রীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার ও অপহরণকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।
তবে সমাবেশে হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আগে থেকে তাদের সমাবেশের কোনও ধরনের অনুমতি ছিল না। আর আটকের বিষয়টিও সত্য না। যাদের নিয়ে আটকের অভিযোগ করা হয়েছে তারা সবাই বাড়িতে চলে গেছে।’
প্রসঙ্গত, গত রবিবার (১৮ মার্চ) ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) সমর্থিত হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মন্টি চাকমা ও রাঙামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দয়া সোনা চাকমাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা হয়। এই ঘটনার জন্য ইউপিডিএফ থেকে বের হয়ে যাওয়াদের সংগঠন ইউপিডিএফ-(গণতান্ত্রিক) এর সদস্যদের দায়ী করেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেতারা।








