পুরনো বছরের দুঃখ, কষ্ট, ও হতাশা মুছে ফেলে নতুন বছরের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের প্রত্যাশায় নদীতে ফুল ভাসিয়ে খাগড়াছড়িতে নব বর্ষ পালন শুরু করেছে চাকমা সম্প্রদায়। চাকমা সম্প্রদায়ের লোকজন তিন ধরে বৈসাবি উৎসব পালন করবে। বৃহস্পতিবার প্রথম দিন ছিল তাদের ফুল বিজু উৎসব।
খাগড়াছড়ি শহরের অদূরে চেংগী নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভোর ছয়টা থেকে নদীতে ফুল ভাসানো শুরু করেছে চাকমা সম্প্রদায়ের লোকজন। এছাড়া নদীতে গোসল করে নিজেকে পূতপবিত্র করেছে। নদীর পানিতে এবং নদীর তীরে অনেককে প্রার্থনা করতে দেখা গেছে। একই দৃশ্য জেলার অন্য দুটি নদী, মাইনী ও ফেনী নদীতে দেখা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে চাকমা নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী ও শিশুদের নদীতে ফুল ভাসাতে এবং মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রার্থনা করতে দেখার গেছে।
খাগড়াছড়ি জেলার সাবেক শিক্ষাবিদ ড. সুধীন কুমার চাকমা বলেন, ‘চাকমারা তিন দিন ধরে বিজু পালন করে থাকে। আজ তারা ফুল বিজু পালন করছে। নদীতে ফুল ভাসিয়ে, নদীর চলমান পানিতে গোসল করে পবিত্র হয়ে ধর্মীয় বিহারগুলোসহ বিভিন্ন স্থানে মোমবাতি জ্বালিয়ে আগত বছরে নিজেদের, দেশ ও জাতির শান্তি সম্প্রীতি ও উন্নয়নের জন্য প্রার্থনা করবে। এছাড়া বিভিন্ন খেলাধুলা, ঘুরাঘুরিসহ আনন্দ করবে। দ্বিতীয় দিন অর্থ্যাৎ আগামীকাল শুক্রবার তারা মূল বিজু পালন করে। এদিন নানা ধরনের শাক-সব্জী দিয়ে তারা পাঁচন রান্না করে। এদিন সর্বনিম্ন ৩২টি থেকে ১০০টি সব্জী দিয়ে পাঁচন রান্না করা হয়। এছাড়া ও বিভিন্ন ধরনের পিঠা ও মিষ্টান্ন তৈরি করা হয়। অতিথিদের জন্য এদিন ঘরের দরজা থাকে খোলা।
তৃতীয় দিন অর্থ্যাৎ আগামী শনিবার নববর্ষে চাকমারা গজ্যাপজ্যা পালন করবে। সেদিন সকালে বিহারে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করবে। এছাড়াও ভালো খাবার রান্না করবে এবং অতিথিদের খেতে দিবে। প্রতিবেশীদের বাড়িতে গিয়ে খাবার দিয়ে আসবে। বিকেলে আবার বৌদ্ধ বিহারগুলোতে গিয়ে প্রদীপ জ্বালিয়ে পূজা করবে। পুরো দিনটি ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ আনন্দ ও বিনোদনের মধ্যে কাটাবে।
এভাবেই চাকমারা আনন্দ উৎসব সাংসারিক, সামাজিক, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনের মধ্য দিয়ে বিজুর মাধ্যমে পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে এবং নতুন বছরকে বরণ করবে।
এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম ও জেলা পুলিশ সুপার আলী আহম্মদ খান অনেকটা অভিন্ন সুরে জানান,‘সকলের সহযোগিতায় এখানো নিরাপত্তাসহ আইনশৃংখলা পরিস্থিতি ভালো আছে। এই পরিস্থিতি বর্ষবরণের শেষ পর্যন্ত রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তারা।
আরও পড়ুন: সাঙ্গু নদীতে ফুল ভাসালো চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়








