চাঁদপুরের কলেজ অধ্যক্ষ ও মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী শাহিন সুলতানা ফেন্সিকে টাকার বিনিময়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র রাকিবুল হাসান। এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া আরেক যুবক ইতোমধ্যে দেশত্যাগ করেছে বলে জানিয়েছে সে। তারা দুজনই অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রীর চাচাতো ভাই। মঙ্গলবার (২৬ জুন) চাঁদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের একজন বিচারকের উপস্থিতিতে ১৬৪ ধারায় রাকিবুল হাসান এ জবানবন্দি দিয়েছে বলে আদালত ও পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই দুই আসামি মামলার এজহারভুক্ত না হলেও প্রধান আসামি ফেন্সির স্বামী অ্যাড. জহিরুল ইসলাম ও দ্বিতীয় স্ত্রী জুলেখা ও জহিরের ভাই-বোনকে আটকের পর রিমান্ড ও জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের নাম। এরই ধারাবাহিকতায় জুলেখার চাচাতো ভাই রাকিবকে সোমবার ঢাকা থেকে আটক করা হয়। তার বাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের রাঢ়িকান্দি গ্রামে। তাকে আটক করে চাঁদপুরে আনার পর সে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।
মামলার প্রধান আসামি জহির তার স্ত্রী ফেন্সিকে খুনের কথা স্বীকার না করলেও পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া রাকিবুল হাসান জবানবন্দিতে বলেছে, হত্যাকাণ্ডে সে ছাড়াও আরও এক যুবক সরাসরি জড়িত। ওই যুবকও জুলেখার আরেক চাচাতো ভাই। ফেন্সিকে হত্যার পরপরই রাকিব ও তার অন্য সহযোগী ওই রাতেই লঞ্চে করে ঢাকায় ফিরে যায়। ফিরে যাওয়ার সময় ফেন্সিকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত জিনিসগুলো মেঘনা নদীতে ফেলে দেয়।
জবানবন্দিতে রাকিব আরও জানিয়েছে, তারা টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে হিসেবে এ হত্যাকাণ্ডে জড়ায়। হত্যাকাণ্ডের সময় রাকিব ফেন্সির পা দুটি চেপে ধরে আর অন্যরা মাথায় আঘাত করে।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার তদন্ত খুব নিবিড়ভাবে চলছে। তদন্তের স্বার্থে অনেককেই আটক করা হচ্ছে। আমরা শিগগিরই ভালো একটি রেজাল্ট পাবো বলে আশাবাদী।
উল্লেখ্য, গত ৪ জুন সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার গল্লাক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শাহীন সুলতানা ফেন্সির (৫০) রক্তাক্ত লাশ চাঁদপুর শহরের পাকা মসজিদ এলাকায় তার নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার স্বামী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. জহিরুল ইসলাম ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী জুলেখাকে আটক করা হয়। পরদিন ৫ জুন ৪ জনের নাম উল্লেখ করে চাঁদপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন ফেন্সির ভাই ফোরকান উদ্দিন খান। পরে তাদের ওই মামলার আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের জন্য অ্যাড. জহিরকে সরাসরি দায়ী করে তার দুই মেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন এবং তার বাবার বিচারের দাবি জানান। অ্যাড. জহির ও জুলেখাসহ হত্যাকারীদের বিচারের দাবি করে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন ফেন্সির মেয়েসহ স্বজনরা।







