চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের মানববন্ধনে ছাত্রলীগ বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। রবিবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
আন্দোলনকারীরা জানান, প্রীতিলতা হলের ছাত্রীরা হলের সামনে থেকে মিছিল বের করে। মিছিলটি লেডিস হলের ঝুপড়ির সামনে এলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর তাদের থামিয়ে দেন। এ সময় তারা মানববন্ধন করার অনুমতি চাইলে প্রক্টর শর্ত সাপেক্ষে তাদের অনুমতি দেন। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বুদ্ধিজীবী চত্বরে এসে মানববন্ধন করে। মানববন্ধন শুরু হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের চারদিক থেকে ঘিরে রাখে এবং স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে তাদের ওপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা চড়াও হয়। পরে প্রক্টর এবং পুলিশ প্রশাসনের চাপের মুখে মানববন্ধন অসমাপ্ত রাখেন তারা।
লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মাহবুবা জাহান রুমি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের কর্মসূচি পালন করছিলাম। এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে আমাদের ওপর চড়াও হয়। পরে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চাপের মুখে মানববন্ধন অসম্পন্ন রেখে চলে আসি।’
কয়েকজন ছাত্রী অভিযোগ করেন- মানববন্ধন শেষে চলে যাওয়ার সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা তাদেরকে বুদ্দিজীবী চত্বর এলাকায় আটকে মোবাইল ফোন তল্লাশি করতে চায়। মোবাইল ফোন না দেওয়ায় হাতাহাতির সৃষ্টি হয়। এ সময় ঘটনার ছবি তুলতে গেলে জাগো নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম’র চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা আব্দুল্লাহ এইচ রাকিবকে মারধর করে ছাত্রলীগের কর্মীরা।
মারধরের শিকার সাংবাদিক আব্দুল্লাহ এইচ রাকিব বলেন, ‘মানববন্ধন শেষ করে ছাত্রীরা হলে ফিরে যাওয়ার সময় ছাত্রলীগের কর্মীরা তিন-চার জন ছাত্রীকে আটকে রাখে। তাদের মোবাইল তল্লাশি করতে চায়। আমি এই ছবি তুলতে গেলে আমাকে ছাত্রলীগের কর্মীরা মারধর করে। এই সময় তারা আমাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়।’ এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বরাবর স্বারকলিপি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্যাহ আল ফয়সল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বলেন, ‘ছাত্রীদের শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধনের অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ায় তাদেরকে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছি।’
সাংবাদিকের ওপর হামালার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে নিজেদের ছাত্রলীগের নেতা দাবি করা বেশিরভাগই বহিরাগত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বহিরাগতদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করেছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের উপ-দফতর সম্পাদক মিজানুর রহমান বিপুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ছাত্রী সংস্থার মেয়েরা মানববন্ধনের নামে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করতে চাইছে। আমরা তাদেরকে বুঝিয়ে হলে পাঠিয়ে দিয়েছি।’








