চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধের পুরানবাজার হরিসভা এলাকায় মেঘনায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রবল ঘূর্ণিস্রোতে এরই মধ্যে বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বাঁধে প্লেসিং ও ড্যাম্পিং করা অনেক জিও ব্যাগ এবং ব্লক নদীতে দেবে গেছে। বুধবার (১১ জুলাই) দুপুরে ওই এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। ভাঙন অব্যাহত থাকায় নদীপাড়ের কয়েক‘শ পরিবার আতঙ্কে রয়েছে। বাঁধের ধস ঠেকাতে ব্লক ফেলা হচ্ছে।
হরিসভা এখানকার বাসিন্দা লক্ষ্মণ দাস (৫০) বলেন, ‘গত কয়েক বছরই বিভিন্ন সময় এ এলাকায় নদী ভাঙে। এখন পানির ঘূর্ণিপাকে এখানকার অনেক ব্লক সরে গেছে। আমরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।’
স্থানীয়রা জানান, বুধবার দুপুরের পরে হঠাৎ করেই ওই এলাকায় মেঘনায় ভাঙন দেখা দেয়। অল্প সময়ের মধ্যে বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার এলাকায় সিসি ব্লক নদীতে তলিয়ে যায়।
তাদের অভিযোগ, চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফলতি এবং কাজের অনিয়মের কারণে এই সমস্য দেখা দিয়েছে। সরকার এতগুলো টাকা খরচ করে চাঁদপুর শহররক্ষা বাঁধ দিয়েছে। অথচ কয়েক বছরের মাথায় এর বিভিন্নস্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়ে স্রোতে তলিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা লোকনাথ জানান, হরিসভার দক্ষিণে মাস্টার বাড়ি, সহদেব সাহার বাড়ি ও গৌরাঙ্গ সাহার বাড়ি এই তিন বাড়ির পেছনে শহররক্ষার আরসিসি’র যে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে, সেখান থেকে নদীর অংশের কয়েক সারির ব্লক বিলীন হয়ে গেছে। ওপরের অংশে ব্লকগুলো আস্তে আস্তে নিচের দিকে তলিয়ে যাচ্ছে। ওই স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ড নতুন করে ব্লক ফেলা শুরু করেছে। নদী ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করায় পুরানবাজার এলাকায় নদী ভাঙছে। হরিসভা রাস্তা ভেঙে গেলে মধ্যশ্রীরামদী ও পশ্চিম শ্রীরামদী এ দুটি এলাকার অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।
চাঁদপুর পৌর ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খায়ের মিজি জানান, হরিসভা মোড় থেকে মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নুর মোহাম্মদ বকাউলের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় আড়াই‘শ মিটার এলাকার ভাঙন পরিস্থিতি খুবই খারাপ। এখান দিয়ে ঘূর্ণিস্রোত কেবল পাক খাচ্ছে এবং নদীও অনেক গভীর। বিষয়টি পৌরমেয়রকে জানানো হয়েছে।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হানসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা ভাঙনস্থান পরিদর্শন করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি ওই কাজের সহকারী হুমায়ুন কবির জানান, গত দু’দিনে নৌকাযোগে ৩৬০টি ব্লক ভাঙন কবলিত স্থানে ফেলা হয়েছে।
উপ-সহকারি প্রকৌশলী আশরাফুজ্জমান বলেন, ‘মেঘনার পানি বেড়ে যাওয়ায় প্রবল ঘূর্ণিস্রোতের সৃষ্টি হচ্ছে। সেই ঘূর্ণিস্রোতের কারণেই হঠাৎ করে শহররক্ষা বাঁধের পুরানবাজার হরিসভা এলাকায় ৭৫ মিটার বাঁধের সিসি ব্লক ও ড্রাম্পিং করা বালি ভর্তি জিও ব্যাগগুলো তলিয়ে গেছে। বর্তমানে পানির গভীরতা প্রায় ১০-১২ মিটার। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ওই স্থানটিতে প্রায় ১২ বছর আগে ভাঙন রোধে বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। এরপরে আর কাজ করা হয়নি। বর্তমানে ভাঙনরোধে আপাতত ওই স্থানের সিসি ব্লক ফেলার প্রক্রিয়া চলছে।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বুধবার হরিসভা এলাকায় বাঁধে ধস দেখা দেওয়ার পরপরই আমরা সেখানে যাই। পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্লক ডাম্পিং শুরু করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে সাখুয়া হতে স্টকে থাকা আমাদের ব্লকের কিছু অংশ এনে আপাতত ভাঙন ঠেকাতে ফেলার ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া দু-একদিনের মধ্যে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হবে। বাঁধ নিয়ে বড় ধরনের ভয়ের কোনও কারণ নেই।’
তিনি জানান, ২০০৫-০৬ সালের পর থেকে বাঁধের জন্য কোনও বাজেট নেই। দীর্ঘ দিন ধরে এখানে কোন কাজ না হওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।







