ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গা শিবির ডুবে গেছে। পাশাপাশি শিবিরের অর্ধশতাধিক রোহিঙ্গার ঘরও ভেঙে গেছে। বুধবার ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দুর্দশা বেড়েছে।
সুত্রে জানায়, বুধবার ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উখিয়া-টেকনাফের বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা শিবির পানিতে ডুবে গেছে। পাহাড় ও বনে কেটে গড়ে উঠা তিনটি শিবিরে প্রায় শতাধিক ঘর ভেঙে গেছে। বাকি শিবিরের রোহিঙ্গা পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে টেকনাফে পাহাড়ের ভেতরে শালবাগান নামক রোহিঙ্গা শিবিরে প্রায় অর্ধশতাধিক ঘর ভেঙে গেছে। এছাড়া উখিয়ার মধুরছড়া, রাইম্ম্যাবিল ও বালুখালী শিবির পানিতে তলিয়ে গেছে। রোহিঙ্গা নেতারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুল জামান চৌধুরী বলেন,‘ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রোহিঙ্গা শিবির পানিতে ডুবে গেছে। তবে কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া রোহিঙ্গা শিবিরে কয়েকটি ঝুপড়ি ঘর ভেঙে গেছে। তাদের এনজিওর সহযোগিতার আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এখনও যারা অনিরাপদ স্থানে রয়েছে তাদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’
উখিয়ার মধুরছড়ার রোহিঙ্গা শিবিরের নেতা মোহাম্মদ সুলতান বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে এখানে ভারী বৃষ্টির হচ্ছে। তাই নিম্নাঞ্চলে গড়ে উঠা শিবিরগুলো বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে। এছাড়া শিবিরের ২০টির মতো ঘর ভেঙে গেছে। এখন ওরা ঘর ছাড়া হয়ে গেছে। তাছাড়াও পাহাড়ের নিচে যাদের ঘর রয়েছে তারা পানি বন্দি হয়ে পড়েছে।
এদিকে টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরের প্রায় ৬০টি ঘর ভেঙ্গে গেছে বলে জানান টেকনাফ উপজেলার রোহিঙ্গা শিবিরের নেতা আলীর জোহার। তিনি বলেন, ‘টেকনাফে ১০টি রোহিঙ্গা শিবির রয়েছে। তার মধ্যে ঝড়ো হওয়ায় শালবাগান, পুটুবনিয়া ও লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের ৬০টি ঘর ভেঙে গেছে। তাদের সরিয়ে নিয়ে অন্য জায়গায় আশ্রয় দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে তারা এখনও আত্মীয়স্বজন ও পাশের ঘরে আশ্রিয় নিয়েছেন। ’
টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরের নারী নেত্রী রমিদা বেগম বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরগুলো পাহাড়ে গড়ে উঠায় ভারী বৃষ্টি হলে প্রাণ হানীর ভয় হয়। ভারী বর্ষণে তার শিবিরে ৪০টি ঘর ভেঙে গেছে। সেগুলো মেরামত করে তাদের থাকার যোগ্য করে দেওয়া হচ্ছে।
উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন,‘ভারী বৃষ্টিতে কয়েকটি শিবিরে সামান্য কিছু ঘর ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়েছি। তবে কোনও দুঘর্টনার ঘটেনি।








