কিশোর মিলন হত্যার ৮ বছরেও বিচার পায়নি পরিবার

রনজিৎ চন্দ্র কুরী, নোয়াখালী
২৭ জুলাই ২০১৮, ১০:৫০আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৮, ১০:৫০

শামছুদ্দিন মিলন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ডাকাত সাজিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে কিশোর শামছুদ্দিন মিলনকে (১৬) পিটিয়ে হত্যা ঘটনার ৮ বছর পেরুলেও এখনও বিচার পায়নি তার পরিবার। ছেলে হত্যার বিচারের অপেক্ষায় দিনগুনে গত বছরের মার্চে মারা যান মিলনের বাবা। অন্যদিকে মিলনের মা কোহিনুর বেগমের অভিযোগ, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা মামলা নিষ্পত্তি করার শর্তে বিভিন্ন আশা দেখালেও পুলিশ তাদের কথা রাখেনি।


২০১১ সারের ২৭ জুলাই ৬ ডাকাতকে পিটিয়ে হত্যা করে কোম্পানীগঞ্জের চর কাঁকড়া ইউনিয়নের বিক্ষুব্ধ লোকজন। কিশোর মিলন ওইদিন সকালে চর ফকিরা গ্রামের বাড়ি থেকে উপজেলা সদরে যাচ্ছিলেন। পথে, চর কাঁকড়া একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে একদল লোক তাকে ডাকাত সন্দেহে আটক করে। পরে স্থানীয়রা তাকে পুলিশের গাড়িতে তুলে দেন। মিলনকে টেকের বাজারে নিয়ে আসা হলে উত্তেজিত জনতা তাকে পুলিশের গাড়ি থেকে নামিয়ে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় মিলনের মা কোহিনুর বেগম একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এনিয়ে দেশব্যাপী আলোচনার ঝড় উঠলে দায়িত্বে অবহেলার জন্য ৪ পুলিশকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। অভিযুক্ত পুলিশ ইন্সপেক্টর ইনপেক্টর উল্লাহ্, এসআই আকরাম শেখ, কনস্টেবল হেমারঞ্জন চাকমা ও আবদুর রহিম পুলিশের বিভাগীয় মামলায় সাময়িক বরখাস্তসহ শাস্তি ভোগের পর বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা কর্মরত রয়েছেন। গণপিটুনীতে অংগ্রহণকারীদের মধ্যে ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত ২৭ জনের মধ্যে বর্তমানে সবাই জামিনে রয়েছে।

২০১৫ সালের জুলাই মাসের প্রথম দিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নোয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-ডিবি) আতাউর রহমান ভূঁইয়া (বর্তমানে অন্য জেলায় কর্মরত) মামলা তদন্তে ভিডিও চিত্র দেখে হত্যার ঘটনায় শনাক্ত হওয়া ২৭ ব্যক্তি ও চার পুলিশ সদস্যসহ ৩১ জন আসামি সবাইকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ডিবি-পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণ না করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী মিলনের মা কোহিনুর বেগম বলেন, ‘অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা মামলা নিষ্পত্তি করার শর্তে বিভিন্ন আশা দেখালেও পুলিশ তাদের কথা রাখেনি। আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার দাবি করছি।’

মামলার তদন্তকারী অফিসার নোয়াখালী সিআইডি জোনের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার জালাল আহম্মেদ মোবাইলে জানান, ‘ভিডিও ফুটেজ দেখে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের তাদের বিভাগীয় পর্যায়ে বিভিন্নভাবে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় দ্বিতীয়বার দোষি সাব্যস্ত করতে পুলিশের ল’ উইংয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে। মতামত পেলে, চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বেশি বিলম্ব হবে না বলে তিনি আশা করেন।’

জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এটিএম মহিব উল্লাহ্ বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর এই মামলায় ডিবি পুলিশ ২০১৫ সালের জুলাইয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণ না করে, মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্যে সিআইডিতে হস্তান্তর করে। মামলার তদন্তে দীর্ঘ সময় লাগার জন্য বিচার প্রার্থীর ভোগান্তি হচ্ছে। সিআইডি কর্তৃক আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল হলে বাদী ন্যায় বিচার পাবে।’

/এআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা, রায় রবিবার
শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা, রায় রবিবার
বজ্রনিনাদে ভারতে বর্ষার প্রবেশ, কেরালাজুড়ে হচ্ছে ভারি বৃষ্টি
বজ্রনিনাদে ভারতে বর্ষার প্রবেশ, কেরালাজুড়ে হচ্ছে ভারি বৃষ্টি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান