খাগড়াছড়ির দীঘিনালার মেরুং ইউনিয়নে জেএসএস সংস্কারবাদী সদস্য মঞ্জু চাকমা হত্যার ঘটনা গণঅসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছে ইউপিডিএফ দীঘিনালা ইউনিটের সংগঠক অতুল চাকমা। তিনি সোমবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই দাবি করেন।
বিবৃতিতে অতুল চাকমা বলেন,‘যে এলাকায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে সেখানে জেএসএস সংস্কারবাদীদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। জন্ম লগ্ন থেকে ইউপিডিএফ কোনদিন ওই এলাকায় যেতে পারেনি।’
সংস্কারবাদীদের অভিযোগ আগা-গোড়া প্রত্যাখ্যান করে অতুল চাকমা বলেন,‘জেলার দিঘীনালা উপজেলার দুলছড়ি তারাবুনিয়া এলাকার মৃত মহেন্দ্র চাকমার ছেলে মঞ্জু চাকমা এক সময় ইউপিডিএফ সমর্থিত গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মদ-জুয়ায় আসক্তি ও বিভিন্ন কেলেংকারিতে জড়িত থাকাসহ সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হলে তিনি জেএসএস সংস্কারবাদী গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হন। এই গ্রুপ তাকে মেরুংয়ের ইয়ারেংছড়ি-শিমুলতলি এলাকায় বিচার বিভাগের দায়িত্ব দেয়। এখানেও তার বিরুদ্ধে বিচারে পক্ষপাতিত্ব করা, ঘুষ নেওয়া, জোর করে টাকা আদায় ও নারী কেলেঙ্কারীসহ বহু অভিযোগ রয়েছে বলে জানা যায়।’
তিনি আরও বলেন,‘কিছুদিন আগে (২ অক্টোবর) সংস্কারবাদীদের দুই সদস্য সেনাবাহিনীর হাতে আটক ও নির্যাতিত হওয়ার পেছনেও তার হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করা হয়। হত্যাকাণ্ডের একদিন আগে অর্থাৎ ৬ অক্টোবর মঞ্জু চাকমা ইয়ারেংছড়ি বাজার থেকে এক বাঙালিকে ধরে এনে খুব মারধর করে তার কাছ থেকে টাকা পয়সা কেড়ে নেয়। পরে তাকে ছেড়ে দেয়। এসব অপকর্মের কারণে তার বিরুদ্ধে মেরুং-এ পাহাড়ি বাঙালি সব মহলের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ এবং নিজ দলের মধ্যেও তার ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দীঘিনালা-লংগদু সড়কের সন্নিকটে শিমূলতলি দোকানে আড্ডা দেওয়ার সময় গতকাল রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় অজ্ঞাতনামা ঘাতকরা তাকে হত্যা করে।’
ইউপিডিএফ নেতা অতুল চাকমা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের দাবি জানান।
জেএসএস (এমএন লারমা) সভাপতি সুধাসিন্ধু খীসা নিহত মঞ্জুকে তাদের যুব সমিতির কর্মী দাবি করে ঘটনার জন্য ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টকে (ইউপিডিএফ) দায়ী করেছে। এছাড়া ইউপিডিএফের অভিযোগ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে তিনি আইনানুগ পদক্ষেপ নিবেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, খাগড়াছড়ির দীঘিনালার দূর্গম দাঙ্গা বাজার এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এমএন লারমা গ্রুপের যুব সমিতির সক্রিয় কর্মী মঞ্জু চাকমা (৪৭) খুন হন।
দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ উত্তম চন্দ্র দেব জানিয়েছেন, পোস্টমর্টেম শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।








