ফেনী মডেল থানায় আটক সেই ১০৯ তরুণের মধ্যে ১০১ জনকে ৩২ ঘণ্টা পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) রাত ১২টার পর থেকে অভিভাবকদের জিম্মায় তাদেরকে এক এক করে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর আট যুবকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় নাশকতার অভিযোগ থাকায় শুক্রবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে পুলিশ তাদেরকে কারাগারে পাঠিয়েছে।
বুধবার (১০ অক্টোবর) বিকাল ৪টার দিকে শহরের শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কের পাশের একটি ভবন থেকে নাশকতার সন্দহে ফেনী মডেল থানা পুলিশ তাদেরকে আটক করে। তারা সবাই টিয়ানশি (TIENS) নামে একটি ফুড সাপ্লায়ার কেম্পানির প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবারও (১১ অক্টোবর) তাদের আদালতে উপস্থিত করা হয়নি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ওই যুবকদের ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ফেনী মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, আটকরা ফেনী ও পাশের চার জেলার ১৩ থানার বাসিন্দা। স্ব-স্ব থানায় খোঁজ নিয়ে যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি এমন ১০১ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ছাড়া পাওয়ার পর সবুজ, মামুন, হারুন ও যোবায়েরসহ বেশ কয়েকজন যুবকের সঙ্গে বাংলা টিব্রিউনের এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তারা জানান, পুলিশ সম্পূর্ণ ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তাদেরকে আটক করেছে। তারা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, টিয়ানশি কেম্পানির প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করা কী অপরাধ। না হয়, কেন পুলিশ আমাদেরকে নাশকতার সন্দেহে ৩২ ঘণ্টা আটক করে রাখলো? আমাদেরকে, পরিবারের মানুষকে মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত করলো। কেন আমাদেরকে থানার ছোট্ট গারদে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে ও বসিয়ে খাওয়া, বিশ্রাম ও টয়েলেট এবং বিশুদ্ধ পানির অভাবসহ এক পোশাকে এত দীর্ঘ সময় শাস্তি দিলো। এই হয়রানির বিচার করার কেউ নেই। আমরা কি হয়রানির কোনও বিচার পাবো না?
ফেনী মডেল থানার ওসি আবুল কালাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৩২ ঘণ্টা আটকের বিষয়টি সত্য নয়।’ তিনি বলেন, ‘যুবকদের থানায় নিয়ে আসার পর কেন এবং কোন উদ্দেশ্যে তারা ওই স্থানে জড়ো হয়েছিল, তা জানতে ও নাম ঠিকানা পরিচয় জানতে সময় লেগেছে। এই সময় তাদেরকে আটক দেখানোটা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। যথাযথ তথ্য সংগ্রহের পর এদের ছেড়ে দিতে বেশি সময় নেওয়া হয়নি।’
আরও খবর: ফেনী মডেল থানায় ৩১ ঘণ্টা ধরে আটক ১০৯ যুবক







