চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) আনোয়ার হোসেন নামে ভর্তি জালিয়াত চক্রের এক সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর মো.আলী আজগর চৌধুরী সাংবাদিকদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল করিম ভবনের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।
প্রক্টর বলেন,‘গত ২৮ অক্টোবর ‘ডি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় আটক বাংলা বিভাগের ছাত্র জামশেদুল কবিরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনোয়ারকে আটক করা হয়েছে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বেরিয়ে আসে ভর্তি জালিয়াত চক্রের বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগে তাকে শোকজ নোটিশ পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’
ভর্তি জালিয়াতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্সে জানিয়ে তিনি আরও বলেন,‘ভর্তি জালিয়াত চক্রের সঙ্গে আরও কে কে জাড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আটক আনোয়ার হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবার নাম সুলতান আহমেদ। তার বাড়ি কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বিন্দাপাড়ায়।
প্রক্টর মো. আলী আজগর চৌধুরী বলেন,‘আনোয়ার দেশের স্বণামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি ও টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার মত জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। তাকে আটকের পর তার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরে জব্দ মোবাইল ফোনের ফেইসবুক একাউন্ট চেক করলে তার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে খোঁজ পায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আনোয়ার শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত। শুধু তাই নয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার জালিয়াতির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা হয়েছে বলে জানা যায়। এসব জালিয়াতির মাধ্যমে টাকার পাহাড় গড়ে তুলে আনোয়ার। চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজারে কুতুবদিয়া কম্পিউটার ও সোনার তরি ট্যুরিজম নামে দুটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মালিক সে। এই দুটি প্রতিষ্ঠানের আড়ালে চলতো তার ভর্তি বাণিজ্যের ব্যবসা। তবে এসব জালিয়াতির সঙ্গে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক জড়িত বলে সন্দেহ করছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ আগস্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডি’-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় বাংলা বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের জামশেদুল কবির নামে একজনকে আটক করা হয়। সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ১০৯নং কক্ষ থেকে তাকে আটক করা হয়।








