বান্দরবানের সুয়ালকে বোতল ফ্যাক্টরি নির্মাণ করা হবে। আর এ জন্য বড় বড় পাহাড় কেটে সমতল ভূমিতে পরিণত করা হচ্ছে। ফ্যাক্টরি স্থাপনের সুবিধার্থে প্রায় ৫ একরের বেশি পাহাড়ী এলাকা সমতল করা হয়েছে। আর পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের সাবেক এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ উঠেছে, বোতল ফ্যাক্টরি নির্মাণের লক্ষ্যে এ বছরের প্রথম দিকে প্রভাবশালী সাবেক বিএনপি নেতা ও কোম্পানির পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কিছু নেতার সঙ্গে মিলে পাহাড় কাটার কাজ শুরু করেন। তবে স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রশাসনের চাপে ওই পক্ষটি পাহাড় কাটা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। তবে সামনে নির্বাচনের কারণে প্রশাসন ব্যস্ত থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে পক্ষটি আবারও পাহাড় কাটতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বান্দরবান সুয়ালকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত স্থানের পাশে প্রায় ৫ একরেরও বেশি পাহাড়ী জায়গা ইতোমধ্যে কেটে সমতল করে ফেলা হয়েছে। এসব পাহাড় কাটতে ব্যবহার করা হচ্ছে তিনটি এস্কেভেটর। আর মাটি সরাতে ব্যবহার করা হচ্ছে বেশ কয়েকটি ডাম্পার ট্রাক।
স্থানীয়রা বলেন, প্রতিবছরই শুষ্ক মৌসুমে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ পাহাড় কাটে। এর ফলে প্রতি বর্ষায় পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। তারপরও পাহাড় কাটা থামছে না। পাহাড় কাটা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানান তারা।
পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহৃত এস্কেভেটরের চালক মো. ইকবাল বলেন, ‘আমি এখানে পাহাড় কেটে সমান করার কাজ করছি। চারদিন ধরে আমরা কয়েকজন এখানে পাহাড় কাটছি।’
ডাম্পার ট্রাক চালক মো. এমরান বলেন, ‘আমি জানতাম না এটি বোতল ফ্যাক্টরির কাজ। আমি মনে করছিলাম এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ মনে করেই মাটি সরানোর কাজ করতে আসছি।’
পাহাড় কাটার সঙ্গে সংশ্লিস্ট সাবেক বিএনপি নেতা ও কোম্পানির পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমি পাহাড় কাটার সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। তবে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য কীভাবে কাজ করতে হবে তা তদারকি করছি। তিনি বলেন, এখানে বোতল ফ্যাক্টরি, শিশু পার্ক কিংবা যে কোনও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ হতে পারে। শুধু যে বোতল ফ্যাক্টরি হবে তার কোনও কথা নেই।’
বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নোমান হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘পাহাড় কাটার বিষয়টি আমি জানতাম না। খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’







