নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অমান্য করে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মো. জাফর আলম চৌধুরীর বিরুদ্ধে। চেয়ারম্যান পদের অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের অভিযোগ, গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে সভা-সেমিনার থেকে শুরু করে মিছিলে অংশ নিচ্ছেন জাফর আলম। এদিকে, প্রচারে অংশ নেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও জাফর আলম নিজ দলের প্রার্থী পক্ষে কর্মিসভায় অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে অবাধ ও প্রভাবমুক্ত রাখতে ক্ষমতাসীন দলের সব সংসদ সদস্যকে (এমপি) নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই ধরনের নির্দেশনা আছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও।
সম্প্রতি আওয়ামী লীগ প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে জাফর আলমের নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর লিখিত অভিযোগ নির্বাচন কমিশন, জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসকের কাছে দাখিল করেছেন চেয়ারম্যান পদের অন্য প্রার্থীরা। লিখিত অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, ইসির পাশাপাশি খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে এমপিদের প্রচারণা না চালাতে কঠোর নির্দেশনা দেন। কিন্তু তা অমান্য করে ‘যেকোনও উপায়ে দলীয় প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনকে জেতাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন জাফর আলম’।
তিনি গত কিছু দিন ধরে গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে উপজেলার বদরখালী, বিএমচর, হারবাং, কৈয়ারবিল, চিরিঙ্গাসহ পৌরসভার বিভিন্ন জায়গায় সভা-সমাবেশ করেছেন। এমনকি, নির্বাচনি মাঠ থেকে সরে যেতে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কর্মী ও সমর্থকদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। এতে তারা আরও উল্লেখ করেন, “একটি সভায় জাফর আলম বলেছেন, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, আর চকরিয়া-পেকুয়া হচ্ছে জাফরের।”
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ, দলীয় প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের পক্ষে জাফর আলমের নির্বাচনি এলাকা দাপিয়ে বেড়ানোর কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এ জন্য আগামী ১৮ মার্চ অনুষ্ঠেয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হওয়া নিয়ে শঙ্কা কাজ করছে তাদের মধ্যে।
চকরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল করিম সাইদী বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা রয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা কোনও প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। কিন্তু এসব বিধি-নিষেধ তোয়াক্কা না করে জাফর আলম দলীয় প্রার্থীর ব্যানারে থাকা গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। সভা-সমাবেশ করছেন। এমনকি, তিনি আমাকে হুমকি পর্যন্ত দিচ্ছেন। এই অবস্থায় নির্বাচনি আচরণবিধি অমান্যের অভিযোগ এনে আমি কক্সবাজার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছি।’
এ ব্যাপারে জাফর আলম বলেন, ‘আমি কোনও প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি ভোট চাচ্ছি না। আমি নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলছি। অবশ্য নৌকার প্রার্থী থাকায় তার পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে কর্মিসভা করছি। আমার বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি অমান্যের অভিযোগ সঠিক নয়।’
জানতে চাইলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. বশির আহমদ বলেন, ‘চকরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ফজলুল করিম সাঈদীর একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে এমপি জাফর আলমকে মৌখিকভাবে বিষয়টি অবগত করেছি। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, কোনও প্রার্থীর পক্ষে কোনও প্রচারণায় অংশ নেবেন না।’
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১৮ মার্চ চকরিয়া উপজেলা নির্বাচনটি হবে জেলার প্রথম নির্বাচন। আমরা চাই অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। এজন্য আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে শুরু করে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আশা করি, যথা নিয়মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’








