আগুন দেওয়ার সময় নুসরাতকে চেপে ধরেন মনি

রফিকুল ইসলাম, ফেনী
২২ এপ্রিল ২০১৯, ১৮:৪৮আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৫২

আগুন দেওয়ার সময় নুসরাতকে চেপে ধরেন মনি নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত সহপাঠী কামরুন্নাহার মনি। নুসরাতকে আগুন দেওয়ার সময় তার শরীর চেপে ধরেন মনি। এর আগে তার সহযোগী শামীম, জাবেদ ও জোবায়েরের জন্য বোরকা ও হাতমোজা কিনে দেন তিনি। সোমবার (২২ এপ্রিল) বিকালে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলাপকালে এমন কথা বলেন মামলার তদন্ত কমকর্তা মো. শাহ আলম।
তিনি বলেন, ‘নুসরাতে সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ছিল মনি। অথচ আগুন দেওয়ার সময় নুসরাতের শরীর চেপে ধরে সে। এর আগে তার সঙ্গে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া সহযোগীদের বোরকার ব্যবস্থাও করে দেয় মনি। নুসরাতের পা বেঁধে চলে যাওয়ার সময় মনি উম্মে সুলতানাকে শম্পা বলে ডাকে। এই শম্পা নামটি পপি ও মনির দেওয়া। এই কিলিং মিশনে আর কোনও ছদ্মনাম ব্যবহার হয়নি। মনি সব অপরাধ স্বীকার করে শনিবার (২০ এপ্রিল) আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে এসব বলেছিল। ’
এদিকে সোমবার দুপরে সোনাগাজী পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কারুন নাহার মনির গ্রামে সরেজমিন গেলে স্থানীয়রা জানায়, মনি পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ইমান আলী বাড়ির অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর কর্মকর্তা আব্দুল আজিজের মেয়ে। গত বছর একই উপজেলার নবাবপুর ইউপির মহদিয়া গ্রামের মেজবাউল খান মিলনের ছেলে রাজু আহাম্মদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। মনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। নুসরাতকে নৃশংসভাবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মনির অংশ নেওয়ায় তার ওপর ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী।
প্রসঙ্গত, নুসরাত হত্যা মামলার আসামি কামরুন নাহার মনিকে গত ১৫ এপ্রিল সোনাগাজী থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ১৭ এপ্রিল তাকে পাঁচদিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। গত শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) মনিকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায় পিবিআই। সে সময় নুসরাতকে হত্যার বর্ণনা দেন মনি। তার দেওয়া তথ্যমতে পিবিআই বোরকার দোকান পরিদর্শন করে।
শনিবার (২০ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহম্মদের আদালতে মনিকে হাজির করে করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী জবানবন্দি রেকর্ডের পর রাত ১০টার দিকে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পিবিআই’র চট্টগ্রাম বিভাগের স্পেশাল পুলিশ সুপার মো. ইকবাল। তবে তদন্তের স্বার্থে তা উল্লেখ করেনি এই কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিমের পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এসময় তাকে কৌশলে একটি বহুতল ভবনে ডেকে নিয়ে যায় অধ্যক্ষের ভাগ্নি পপি। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান নুসরাত।

/এআর/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম